দেশ ছাড়ার আগে আমির হামজাকে যা বলে গেলেন আজহারী, ভিডিও ভাইরাল

বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী পিএইচডি গবেষণার কাজে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে আরেক আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মুফতি আমির হামজার সঙ্গে কথা হয় তার। সম্প্রতি এক বিশাল তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে আজহারীর কাছে দোয়া চান হামজা। 

ওই মাহফিলে আজহারী বক্তব্য শুরু করার আগে আমির হামজা তাকে বলেন, ‘দোয়া করবেন, আর (মালয়েশিয়া) দেখা হবে না হয়তো। তবে আমার ওই নম্বরটা রাখবেন। আমি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করবো।’

এসময় পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষায় সম্মতিসূচক জবাব দিয়ে আজহারীও আমির হামজার কাছে দোয়া চান। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে এই দুই ধর্মীয় বক্তার কথোপকথনের একটি ভিডিও। সেটি ভাইরালও হয়ে গেছে। তবে মাহফিলটি কোথায় হয়েছিল সে সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া না গেলেও ভিডিওতে তাদের কথোপকথন স্পষ্ট। 

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতক আমির হামজা তরুণ ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অন্যদিকে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্যও চলতি সময়ে তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। 

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে মার্চ পর্যন্ত সব তাফসির কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে গবেষণার কাছে মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার কথা জানান আজহারী। তাফসির কর্মসূচি স্থগিতের পেছনে পারিপার্শ্বিক কারণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

ওই পোস্টে আজহারী বলেন, ‘রিসার্চের কাজে আবারও মালয়েশিয়া যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলে আবারও দেখা হবে এবং কথা হবে কোরানের মাহফিলে ইনশাল্লাহ।’

আজহারী বলেন, ‘এ বছর বেশিরভাগ মাহফিলেই পারিবারিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে কথা বলেছি। কয়েকটি সুরার তাফসিরও করেছি। আশা করি, আলোচনাগুলো থেকে আপনারা উপকৃত হবেন।’

নিজেকে ‘নগন্য মানুষ ও মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের ছাত্র’ উল্লেখ করে আজহারী বলেন, ‘কোরআনের ছাত্র হয়েই বেঁচে থাকতে চাই এবং নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই। তাই সুপ্রিয় শ্রোতাদের বলবো- প্লিজ আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে কোনো ব্যাপারে কাউকে গালাগাল করবেন না, অন্য কোনো মতাদর্শের আলেমদের হেয় বা ছোট করে কিছু বলতে যাবেন না। যদিও তাদের কেউ কখনও আমাকে ছোট করে কথা বলে। অনুরূপভাবে কোথাও আমাকে ডিফেন্ড করে তর্ক বা কমেন্ট করতে চাইলে, ভদ্রতা বজায় রেখে, যৌক্তিকভাবে এবং বিনয়ের সাথে সেটা করুন।’

জনপ্রিয় এই ধর্মীয় বক্তা আরও বলেন, ‘সত্য একদিন উন্মোচিত হবেই। দেশের সাধারণ জনতার যে ভালোবাসা পেয়েছি, জানি না সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝরালে এবং কোন ভাষায় শোকরগোজার হলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে। মালিকের দরবারে আলিশানে লাখো কোটি শুকর ও সুজুদ। ওয়ালহামদু লিল্লাহ ‘আলান্নি’ আম।’

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.