পুলিশ মধ্যরাতে মা-ছেলেকে ছাড়ল

পুলিশ বিক্ষোভের মুখে পড়ে মুচলেকা নিয়ে সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছে।

 

রোববার মধ্যরাত ১২টার দিকে কলাবাগান থানা থেকে দুজনকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কলাবাগান এলাকার একটি মাঠে থানা ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা রত্না। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য।

 

 

রোববার সকালে ওই মাঠে ইট-সুরকি ফেলা হলে সেখানে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন সৈয়দা রত্না। এক পর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে তাঁকে আটক পরে পুলিশ। পরে তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলেকেও ধরে নেওয়া হয়।

 

পুলিশ

দিনভর মা–ছেলেকে থানায় আটকে রাখা হয়। তাঁদের আটকের খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে ওই মাঠে যান মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, উদীচীর ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূরসহ কয়েকজন।

 

পরে রাতে মা–ছেলের মুক্তি দাবিতে মানবাধিকারকর্মী ও উদীচীর নেতা–কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন কলাবাগান থানার সামনে। সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলের মুক্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘হে পুলিশ আমার মা কই’, ‘পুলিশ আমার বোন কোথায়’, ‘পুলিশ আমার ভাই কোথায়’, ‘মাঠ দখল করে থানা চাই না’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

 

 

পুলিশ
মাঠরক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে টানা ১৩ ঘণ্টা কলাবাগান থানায় আটক ছিলেন সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলে, মধ্যরাতে মুক্তি পেয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন মা ।

 

রাত ৯টার দিকে থানার সামনে থাকা উদীচীর সদস্য নাজিয়া নিগার সিডিনিউজকে বলেন, নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণেই সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলেকে পুলিশ হয়রানি করা হচ্ছে।

 

এ সময় কলাবাগান থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সৈয়দা রত্নার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা দেওয়া হচ্ছে।

 

এরপর কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র বাইরে যান। থানায় ফিরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়, শুধু সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সৈয়দা রত্নার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। আর তাঁর ছেলেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

ওসি পরিতোষ এই ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তাঁর মোবাইলে একটি কল আসে। তখন পাশে গিয়ে ফোনে কথা বলেন তিনি। মুঠোফোনে কথোপকথন শেষে ওসি বলেন, কারও বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে না। মা–ছেলে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হবে। শুধু মায়ের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হবে।

 

 

এরপর সৈয়দা রত্না কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। মাঠরক্ষার আন্দোলন করবেন না এবং ডাকলে যেকোনো সময় থানায় হাজির হবেন-এই শর্ত দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়।

 

 

থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রত্না বলেন, ‘আমাকে থানায় এনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন এর বেশি আর কিছু বলতে পারছি না।

 

রাজধানী জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অনুমোদনহীন লেগুনা

পুরোনো রূপে ফিরছে নিউ মার্কেট

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.