বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে অনিয়ম

বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় নিয়ে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলাচলকৃত ওই সেতু পারাপার হওয়া যানবাহনের চালকরা।

 

তারা বলছেন, সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়মেই টোল আদায় করছে। কারও কাছে বেশি আবার কারও কাছে কম এ রকম কাজ করার কোনো নিয়ম নেই।

সব যানবাহন পারাপারের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতুতে গত ১৮ নভেম্বর রাত ১২টার পর থেকে বাড়তি টোল আদায় করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

 

এ কারণে ওই রাত থেকেই সব প্রকার যানবাহন থেকে পূর্বের টোলের চেয়ে বাড়তি টোল আদায় শুরু করে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ।

 

তবে প্রজ্ঞাপনে জারি করা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বাড়তি টোল দিতে হচ্ছে বেশিরভাগ ট্রাকচালক ও মালিককে। এতে করে ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছেন তারা।

 

আবার কিছু ট্রাক থেকে নেওয়া হচ্ছে পূর্বের টোলের চেয়েও কম টোল। এ নিয়ে সেসব ট্রাকের মালিক-চালক আবার খুশি। তারা আবার বলছেন, সরকার তাদের টোল কমিয়ে দিয়েছে।

 

কিন্তু এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, বিআরটির স্থাপন করা সফটওয়্যারের কারণে টোল আদায়ে কম বেশি হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ এবং যানবাহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

 

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর মোটরসাইকেল ৩০ টাকা, হালকা যানবাহন ৪০০ টাকা, ছোট বাস ৫৫০ টাকা, বড় বাস ৮০০ টাকা, ছোট ট্রাক ৭৫০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ১০০০ টাকা, বড় ট্রাক ১২৫০ নির্ধারণ করা হয়।

 

পরে ২০১১ সালে প্রথম দফায় এ সেতুতে টোল আদায় বৃদ্ধি করা হয়। তাতে ১০ টাকা বাড়িয়ে মোটরসাইকেল ৪০ টাকা, হালকা যানবাহন ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, ছোট বাস ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা, বড় বাস  ১০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৯০০ টাকা, ছোট ট্রাক ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১১০০ টাকা এবং বড় ট্রাক ১৫০ টাকা বাড়িয়ে টোল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪০০ টাকা।

 

কিন্তু বর্তমানে চলতি বছরের ২ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় টোল বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে সেতু কর্তৃপক্ষ। এ প্রজ্ঞাপনে ১০ টাকা বাড়িয়ে মোটরসাইকেল ৫০ টাকা, হালকা যানবাহন ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা, হালকা যানবাহন এক টনের কম ৬০০ টাকা, ছোট বাস ৭৫০ টাকা, বড় বাস ১০০০ টাকা, ছোট ট্রাক ১০০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ১২৫০ টাকা এবং বড় ট্রাক ১৬০০ টাক, ট্রাক ২০০০ টাকা, ট্রেইলার ৩০০০ টাকা ও ট্রেইলার ৩০০০+ প্রতি এক্সেল ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ট্রেন চলাচলের জন্য বার্ষিক এক কোটি টাকা টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তা ১৮ নভেম্বর রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর শুরু হয়।

 

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর এলাকার সোহাগ রানা নামের মাহিন্দ্র পিকআপচালক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্গবন্ধু সেতু পার হচ্ছেন। তার ছোট ট্রাকটি এক হাজার ৪৯০ কেজি। এ জন্য তার আগে টোল দিকে হতো ৫০০ টাকা।

 

বর্তমানে ১০০ টাকা বাড়িয়ে তার গাড়ির টোল ৬০০ টাকা করা হলেও বর্তমানে দেড় টনের কম ট্রাকগুলোতে দ্বিগুণ টোল আদায় করা হচ্ছে। এ কারণে তাকে বর্তমানে এক হাজার টাকা টোল দিয়ে সেতু পার হতে হয়।

 

ট্রাকচালক আয়নাল হোসেন জানান, আগে তিনি ৫০০ টাকায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়েছেন, কিন্তু বর্তমানে ১০০ টাকা টোল বৃদ্ধি করলেও বর্তমানে তাদের টোল দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসার খাতিরে তাকে বাধ্য হয়ে এক হাজার টাকা টোল দিয়েই সেতু পার হতে হচ্ছে।

 

এদিকে গত ৭ মে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে দেড় টনের ট্রাক বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়। সেই সময় ওই ট্রাকচালক সেতুতে টোল দেন ৮৫০ টাকা। কিন্তু টোল আদায় বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনে তিনি জানতে পারেন, সেতু পার হতে তাকে ১০০০ টাকা টোল দিতে হবে।

 

কিন্তু প্রজ্ঞাপন  জারির পর তিনি সেতু পার হওয়ার সময় টোল দেওয়ার জন্য এক হাজার টাকার একটি নোট দিলেও তাকে টোলের রশিদের সঙ্গে ৪০০ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

তিনি মনে করেছেন দেড় টন ট্রাকের টোল মনে হয় কমিয়ে দিয়েছে অথবা ভুল করে ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে তার ওই রশিদে লেখা ছিল মাইক্রোবাস/পিকআপ।

 

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, সফটওয়্যারে যেভাবে আসে, সেভাবেই টোল আদায় করা হয়।

 

আর এ সমস্যাটা মূলত বিআরটিএর কারণে হচ্ছে। কোনো গাড়ি বড় দেখালে সেটি হয়তো কাগজপত্রে কম দেখানো হয়েছে।

 

আবার ছোট গাড়ি কাগজপত্রে বড় দেখানো হয়েছে। এ কারণেই টোল আদায়ে কমবেশি হচ্ছে। এতে তাদের কোনো হাত নেই বলেই জানান তিনি।

 

 

 

আরও পড়ুন

শিক্ষা  অপরাধ  স্বাস্থ্য  অর্থনীতি  রাজনীতি  আন্তর্জাতিক  খেলাধুলা  লাইফস্টাইল  সারাদেশ

বঙ্গবন্ধু

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.