বরফের দেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

তাপমাত্রা মাইনাস ২১। তবে মনে হচ্ছে আরও কম। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখি আসলেই কম। ফিলস লাইক মাইনাস ২৭। উত্তরের হাড় কাঁপানো বাতাস। পকেট থেকে হাত বের করার কোনো উপায় নেই।

 

পার্কিংয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দুই মিনিট হাঁটাও প্রায় অসম্ভব। রাস্তায় লোকজন একেবারেই কম। ক্যাম্পাস বলতে গেলে পুরোটাই ফাঁকা। কিন্তু এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ইউনিভার্সি অব নর্থ ডাকোটার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণিল আয়োজন।

ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ। আমেরিকার শিক্ষার্থীদের খুবই ব্যস্ত সময়। সেমিস্টারের শেষ সপ্তাহ। পরীক্ষা আর অ্যাসাইমেন্ট নিয়ে সবারই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

 

তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যঅসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হলো— আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। শুরু হলো অর্থ সংগ্রহ। বাজার সদাই। রান্নার আয়োজন।

 

এর সঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। এগিয়ে এলেন সবাই। এ যেন বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকের মতো। যার যা কিছু আছে তা নিয়েই এগিয়ে এলেন। কেউ দায়িত্ব নিলেন বাজারের। কেউবা রান্নার।

 

আর কেউ বসেছেন ল্যাপটপ নিয়ে অনুষ্ঠান সাজানোর কাজে। আর শিল্পীরা ব্যস্ত রিহার্সেলে। খুব কম সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ।

 

ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন বাংলাদেশে ১৭ ডিসেম্বর হলেও গ্রান্ড ফক্সে ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেমোরিয়াল ইউনিয়নের হলরুমে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের অনুমিত নেওয়া হয়েছে।

 

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অনেকে এসে হাজির।

 

যথাসময়েই অনুষ্ঠান শুরু করলেন উপস্থাপক সৌমিক। সে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক।

 

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু। সবাই দাঁড়িয়ে পড়েছে। সেই আবেগ। সবার চোখেই জল। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, আবার মনে করিয়ে দিল হুমায়ুন আহমেদ হোটেল গ্রাভারিয়ানের বর্ণনা।

 

সময় বদলেছে। কিন্তু আবেগ একই আছে। বুকে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে হৃদয় উজাড় করে সবাই গাইছে— ‘মা তোর বদন খানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি…’

 

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন কমিটির সভাপতি সুদীপ। এর পর শুরু হলো বর্ণিল আয়োজনের বিভিন্ন পরিবেশনা। দেশাত্মবোধক গান থেকে শুরু করে কবিতা আবৃত্তি।

 

ছিল কুইজ শো ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই ঘণ্টা যে কখন কেটে গেল তা টেরই পাওয়া গেল না। বিজয়ের আনন্দ উদযাপন যেন পরিণত হয় মিলনমেলায়।

 

বিভিন্ন পরিবেশনার মাঝে মাঝে স্মরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

সব শেষে ছিল রাতের খাবার। বুফে খিচুড়ি ও ভুনা মাংস। কমিটির অ্যাডভাইজার মুশফিক ভাইয়ের বাসায় খাবার খেতে খেতে আড্ডা জমে ওঠে। বরফের দেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন যেন বাঙালির আবেগের বহির্প্রকাশ, যা অনেকটা এই গানের কথার মতোই—

‘বাংলা আমার তৃষ্ণার জল
তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ’

 

 

আরও পড়ুন

শিক্ষা  অপরাধ  স্বাস্থ্য  অর্থনীতি  রাজনীতি  আন্তর্জাতিক  খেলাধুলা  লাইফস্টাইল  সারাদেশ

বরফের বরফের  বরফের বরফের  বরফের 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.