বাংলাদেশ নৌবাহিনী, পদবিন্যাস, বেতন ও ভাতা

বাংলাদেশ নৌবাহিনী,পদবিন্যাস,বেতন ও ভাতা

মাত্র দুটি গানবোট নিয়ে যাত্রা শুরু করা ১৯৭১ সালের নৌবাহিনী বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণতা, দূরদৃষ্টি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দিক নির্দেশনায় আজ একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংযোজিত হয়েছে দুটি আধুনিক সাবমেরিন বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা, আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজ- ফ্রিগেট, করভেট, লার্জ প্যাট্রল ক্রাফট, ওপিভি, প্যাট্রল ক্রাফট ও জরিপ জাহাজ।

সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে যুক্ত হয়েছে বিশেষায়িত নৌকমান্ডো দল সোয়াডস। এ ছাড়া সমুদ্রে জরুরি উদ্ধার ও টহল পরিচালনার জন্য নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সুবিধা সংবলিত নেভাল এভিয়েশন। পাশাপাশি আধুনিক সারভেইল্যান্স ইকুইপমেন্ট সংযোজন ও কমব্যাট সিস্টেমগুলোর আধুনিকায়নের কার্যক্রম চলমান। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধাসংবলিত নতুন নতুন অবকাঠামো ও স্থাপনা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূরাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেশের জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সমুদ্রসম্পদের গুরুত্ব অনুধাবন করে ঐতিহাসিক ছয় দফায় নৌবাহিনী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়েছিলেন।

 


স্বাধীনতার পর একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে নেভাল এনসাইন প্রদান করেন এবং একযোগে বানৌজা ঈশা খানসহ তিনটি ঘাঁটি বানৌজা হাজী মহসিন ও বানৌজা তিতুমীর এবং তিনটি জাহাজ কমিশনিং করেন।

 

বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্য থেকে সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করা যুদ্ধজাহাজ পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালের ১০ ডিসেম্বর বানৌজা ওমর ফারুক নামে কমিশনিং করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতায় ১৯৭৪ সালে প্রণীত হয় সমুদ্র অঞ্চলবিষয়ক আইন ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট-১৯৭৪’। সেই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের এক বিশাল সমুদ্র এলাকা।

 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী,পদবিন্যাস,বেতন ও ভাতা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিছু সংখ্যক নাবিক ও তরূণ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা নৌ কমান্ডো দল এবং মাত্র ২টি গান বোট পদ্মা ও পলাশ এর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত অপারেশানসমূহ বাংলাদেশের সবাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। কালের পরিক্রমায় ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশ গঠন ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে যথাক্রমে বিগত ২০১২ সালে এবং ২০২২ সালে সমুদ্র সীমানা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে অর্জিত সমুদ্র জয় এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা এবং এ এলাকায় অবস্থিত সকল বন্দর ও স্থাপনার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশের অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যুদ্ধকালীন সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, অপারেশান পরিচালনা করা, শান্তিকালীন সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ সংবদ্ধ করা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, সমুদ্রে টহল প্রদান, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, জলদস্যু প্রতিরোধ/দমন এবং তেল ও গ্যাস সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, আইন শৃংখলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান ইত্যাদি পরিচালনা করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্বসমূহের অন্যতম। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে অপারেশান, বহুজাতিক প্রশিক্ষণ/মহড়া ইত্যাদিতেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী,পদবিন্যাস,বেতন ও ভাতা

নৌবাহিনীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড, যার মাধ্যমে দেশি প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের এই বিশাল জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ সমুদ্রের সম্পদের নিরাপত্তা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের জলসীমায় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়। এ ছাড়া জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘জাতীয় মৎস্য পদক’-এ ভূষিত হয়েছে। জাতির পিতার আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সাহস, বীরত্ব, অসামান্য পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের বসবাসের জন্য নৌবাহিনী ভাসানচরে মানসম্মত আবাসন তৈরি করেছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় মানুষের মানবিক সহায়তা, জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছে নৌবাহিনী। দেশের মানুষের সেবায় লোকচক্ষুর অন্তরালে গভীর সমুদ্রে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। দেশের যে কোনো প্রাকৃতিক ও নৌদুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী,পদবিন্যাস,বেতন ও ভাতা

 

নৌবাহিনীর গুরুত্ব:

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রব খান বলছেন, বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগর আন্তর্জাতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

“বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগর আন্তর্জাতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বেড়ে যাওয়ার ফলে নৌবাহিনীর গুরুত্বও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।”

 

এই অঞ্চল কেন্দ্র করে বিভিন্ন শক্তির প্রতিযোগিতার বাইরেও জলদস্যুতা আর বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বেড়ে যাওয়ার ফলে নৌবাহিনীর গুরুত্বও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, খুব তাড়াতাড়িই ঘাঁটি সুবিধাসহ নৌবাহিনীতে সাবমেরিন যুক্ত করা হবে।

 

তবে মি.খান আশংকা করছেন, সাবমেরিনের মতো অত্যাধুনিক সরঞ্জাম হয়তো প্রতিবেশীদের সাথে কিছুটা দুরত্বেরও তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের সরকার এর আগেই ঘোষণা দিয়েছে, পর্যায়ক্রমিকভাবে নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলা হবে।

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলছেন, সে জন্য বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে এবং তার জন্য সব ধরণের জাহাজের সংমিশ্রণ থাকতে হবে।

 

বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি দ্রুতগতির পেট্ট্রোল বোট ও মিসাইল বোট বেশি করে বহরে যুক্ত করতে হবে, যেটি বাহিনীটি এর মধ্যেই করতে শুরু করেছে। নৌবাহিনীর জন্যে একটি বিমানবহরও থাকা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

 

তবে আবদুর রব খানের মতে, বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশের ক্ষেত্রে সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেশের আয় ও সঙ্গতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে, যাতে এ ধরণের ব্যয় দেশের অর্থনীতিতে সংকট তৈরি না করে।

 

মি. খান বলেন নিরাপত্তার জন্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু আধুনিকায়ন করার মধ্যেও একটি সমন্বয় রাখতে হবে, যাতে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, আর্থিক সামর্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। না হলে তা দেশের জন্য উল্টো সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের নিজেদের তৈরি যুদ্ধজাহাজ একটি শুভসূচণা। বাংলাদেশ যদি নিজেরাই বড় ধরণের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে পুরোপুরি সক্ষম হয়ে ওঠে তাহলে সেটি শুধু নৌবাহিনী নয় দেশের অর্থনীতির জন্যেও সহায়ক হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী,পদবিন্যাস,বেতন ও ভাতা

নৌবাহিনীর অফিসারদের র‌্যাংকসমূহ হচ্ছে অ্যাকটিং সাব-লেফটেন্যান্ট, সাব-লেফটেন্যান্ট, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, কমান্ডার, ক্যাপ্টেন, কমোডর, রিয়ার অ্যাডমিরাল, ভাইস অ্যাডমিরাল ও অ্যাডমিরাল।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ,পদবিন্যাস ,বেতন ও ভাতা বর্তমানে প্রায় ১২০০ অফিসার, ১২,০০০ নাবিক এবং ২৫০০ বেসামরিক কর্মকর্তা/কর্মচারী চাকুরীরত আছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ৮০ টি যুদ্ধ জাহাজ সহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, কাপ্তাই, খুলনা ও মংলায় ৫টি বৃহৎ নৌঘাঁটি রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ব্যাপক সামরিক ক্রয়-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র, যন্ত্রপাতি এবং সামরিক সরঞ্জাম যেমন জাহাজ ধ্বংসকারী মিসাইল, সমুদ্রে টহলের বিমান, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও হেলিকপ্টার। নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক ফ্রিগেট বানৌজা বঙ্গবন্ধুর ন্যায় অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ক্রয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক বৎসরের মধ্যে নৌবাহিনীর পুরাতন জাহাজসমূহ প্রতিস্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে যাত্রা শুরু করে ক্রমান্বয়ে নৌবাহিনীর জনবল বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত হয়েছে প্রশিক্ষণের মানও। নৌবাহিনীতে বর্তমানে অন্যান্য বাহিনীর প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও বন্ধুপ্রতীম বিদেশী নৌবাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর জাহাজ বিদেশে নিয়মিত শুভেচ্ছা সফরে গমন করে। এতে নবীন অফিসার ও নাবিকদের পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের নৌ-সদস্যদের সাথে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী তার সীমিত সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও জনবল নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিশাল সমুদ্র এলাকায় স্বীয় দায়িত্ব পালন করে চলেছে। নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয় এ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশমাতৃকার সেবায় নিবেদিত।

 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী,পদবিন্যাস,বেতন ও ভাতা

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা রক্ষার মতো জাতীয় দায়িত্বে নিয়োজিত। দেশের তিন-চর্তুর্থাংশের সমান আয়তনের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং সমুদ্রসীমায় খনিজ সম্পদ ও মৎস্য আহরণসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্ব। মুলতঃ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্ব দুটি ভাগে বিভক্ত, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব ও শান্তিকালীন দায়িত্ব। যুদ্ধের সময় সমুদ্র এলাকায় শত্রু মোকাবেলার পাশাপাশি গ্যাস, তেল ও খনিজ সম্পদের মত সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব।

এছাড়া শান্তির সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা লোকচক্ষুর অন্তরালে সাগরে চোরাচালান বিরোধী অভিযান, জলদস্যু বিরোধী অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মৎস্যসম্পদ রক্ষাসহ পরিবেশ দুষণ নিয়ন্ত্রন অভিযানে ব্যস্ত থাকেন। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেশের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা এবং দ্বীপাঞ্চলের মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

 

 

আরও পড়ুন

শিক্ষা  অপরাধ  স্বাস্থ্য  অর্থনীতি  রাজনীতি  আন্তর্জাতিক  খেলাধুলা  লাইফস্টাইল  সারাদেশ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.