বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্বের এক দ্বীপরাষ্ট্রের নাম পাপুয়া নিউগিনি। প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশটির যেমন রয়েছে মন মাতানো সৌন্দর্য, তেমনি মাটির নিচে রয়েছে অজস্র খনিজ সম্পদ। এতকিছু থাকার পরও অবশ্য বেশ বিপর্যস্ত দেশটির অর্থনীতি।

 

প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন দারিদ্রসীমার নিচে। তবে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বিশ্ব ক্রিকেটে ঠিকই হাঁটি হাঁটি করে এগিয়ে চলেছে নবীন এই ক্রিকেট খেলুড়ে দেশটি। এবার ইতিহাস গড়ে জায়গা করে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।


শক্তিতে ছোট হতে পারে, কিন্তু অর্জনে পাপুয়া নিউগিনি এখন সবচেয়ে বড়। ক্রিকেটের নবীনতম এ দেশটি ২০১৪ সালের সবচেয়ে সফল দল।

 

২০১৪ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এই মঞ্চে যাত্রা শুরু করেছিল পাপুয়া নিউগিনি। কিন্তু বসন্ত বেশিদিন টেকেনি তাদের। পরপর দুই জয়ের পর হারের মুখই দেখতে হয়ে বেশি। বিশেষ করে ২০১৯ সালে এপ্রিলের পর থেকে জিততেই ভুলে গিয়েছিল দলটি।

বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাল থেকে স্বাধীনতা লাভ করে পাপুয়া নিউগিনি। দেশটিতে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এর একবছর পরই তারা লাভ করে আইসিসির সহযোগী সদস্যের মর্যাদা।

 

কিন্তু ২০১২ সালের আগে ক্রিকেটের কোনো আসরেই ঠিকভাবে নিজেদের নিয়ে আসতে পারেনি তারা। মূলত, ২০১২ সাল থেকেই আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর বাছাই পর্ব খেলে আসছে তারা। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা প্রায়ই অর্জন করে ফেলেছিল তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বঞ্চিত হয়।


বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেই মোটামুটি সাফল্য রয়েছে পাপুয়া নিউগিনির। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আটবার অংশ নিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। দেশটির নারী ক্রিকেট দলও পিছিয়ে নেই পুরুষ দলের চেয়ে।

 

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পেরেই খুশি তারা। 

বাংলাদেশ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আমিনি বলেন, বাংলাদেশ এই আসরে খুব ভাল অবস্থানে থেকেই এসেছে। ওরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। যদিও তারা এখানে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছে। তবুও বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। আমরা তাদের সঙ্গে খেলতে পেরে সত্যিই খুব খুশি।

তবে এ আনন্দেই সন্তুষ্ট থাকতে রাজি নন আমিনি। বাংলাদেশকে হারিয়ে অঘটনের বার্তা দিয়ে রাখলেন। এটিও মনে করিয়ে দিলেন, সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে সুপার টুয়েলভের দৌড়ে টিকে থাকবে পাপুয়া নিউ গিনি, তাকিয়ে থাকবে কাল দিনের শেষ ম্যাচের দিকে। আমিনি চাইছেন সেটাই।

 

আমিনি বললেন, আমরা বিশ্বকাপে খেলতে পেরে সত্যি গর্বিত। আমরা নিজেদের চেষ্টার জন্যও গর্বিত। আমরা হয়ত প্রথম দুই ম্যাচ হেরেছি কিন্তু এখনও আমাদের হাতে একটি সুযোগ আছে। স্কটল্যান্ড যদি অঘটন ঘটাতে পারে আমরাও বাংলাদেশকে হারিয়ে অঘটন ঘটাতে পারি।

 

বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস তৈরির ইঙ্গিত আমিনির কণ্ঠে, আমাদের প্রধান কাজ হবে ম্যাচটা জেতা। কারণ জিতলে আমাদের জন্য ইতিহাস তৈরি হবে। জয়ের চেষ্টা করাটাই আমাদের হাতে। এর বাইরে কোন কিছু তো আমাদের হাতে নেই। তাই আমরা আগামীকালের সুযোগটাতে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করতে চাই। এরপরে তো রান রেটের হিসাব আছে, এটাও আমাদের হাতে নেই। ওটা এখন খুব শক্তও। আমরা শুধু একটা জয় আশা করছি।

 

গ্রুপের অন্য দুই দলের চেয়ে তুলনামূলক দুর্বলই বলা চলে পাপুয়া নিউগিনিকে। তাদের বিপক্ষেই নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

 

আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ওমানের কাছে পাত্তা না পেলেও, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ লড়াই করেছিল পাপুয়া নিউগিনি। আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের বিপক্ষে ফের মুখ থুবড়ে পড়েছে আসাদ ভালার দল।

 

সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘূর্ণির সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে ৯৭ রানে থেমে গেছে পাপুয়া নিউগিনির ইনিংস। বাংলাদেশ পেয়েছে ৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়।

 

ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ১৮১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ, যা কি না বিশ্বকাপে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ৫০, সাকিব আল হাসানের ৪৬ ও শেষদিকে আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যামিওতে আসে এই সংগ্রহ।

 

পরে বল হাতে বিশ্বরেকর্ডই গড়েছেন সাকিব। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৪টি উইকেট। যার সুবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৯ উইকেটের মালিক হলেন সাকিব। তার সমান ৩৯ উইকেট রয়েছে শহিদ আফ্রিদির।

 

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ২০ ওভারের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রানে জয়ের নিজেদের রেকর্ড নতুন করে লিখেছে বাংলাদেশ। এতদিন ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১২ সালে বেলফাস্টে প্রথমে ১৯১ রান করে টাইগাররা জিতেছিল ৭১ রানে।

 

এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিল ওমানের বিপক্ষে। ভারতের মাটিতে হওয়ায় ২০১৬ সালের আসরে ওমানের বিপক্ষে ৫৪ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। এ দুটি রেকর্ডই নতুন করে লিখে এবার বাংলাদেশ জিতলো ৮৪ রানে।

 

২০২২ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে মাত্র একটি ম্যাচ দূরে ছিল তারা। যদিও বাংলাদেশের কাছে হেরে শেষ হয়ে যায় তাদের স্বপ্ন।

বিশ্বকাপে খেলার চেয়েও পাপুয়া নিউগিনির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৪ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন। হংকংকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে জয় পান তিনি। যে কারণে ছয় দলের বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউগিনির সবচেয়ে বড় শক্তি ফিল্ডিং। টেস্টখেলুড়ে অনেক দেশের চেয়েও শক্তিশালি ফিল্ডিং দেশটির। ফিল্ডিংয়ে তাদের দ্রুতগতি এবং ক্ষিপ্রতা প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি প্রতিপক্ষের প্রচুর ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার হন এ কারণে।

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে পাপুয়া নিউগিনির অধিনায়ক আসাদ ভালা ফিল্ডিং নিয়ে বলেন, ‘আমাদের গর্ব হচ্ছে ফিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। অন্যান্য বিভাগেও আমরা সমানতালে ভালো করতে চাই। পুরো দলটাকেই অলরাউন্ড দল হিসেবে তৈরি করতে চাই। আমরা নিজেদের সেরা নিয়ে মাঠে হাজির হবো এবং নিজেদের দেশকে গর্বিত করার চেষ্টা করবো।


টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি হচ্ছে পাপুয়া নিউগিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই তাদের প্রথম ম্যাচ। ওই ম্যাচ নিয়ে অধিনায়ক আসাদ ভালা বলেন, সত্যি বলতে, এটা হচ্ছে আমাদের জন গৌরবময় এবং ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত। অনেকদিন পর আমাদের এমন একটি মুহূর্ত সামনে এলো। অনেকবারই আমরা বিশ্বকাপ খেলার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর সম্ভব হয়নি।

 

এবার আমরা সেটা অর্জন করেছি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলার আগে আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে। প্রথম ম্যাচের জন্য ছেলেরা সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে। করোনা মহামারির মধ্যে অনেক মানুষ মারা গেছে, অনেকেই চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছে- তাদের জন্যই আমরা এই বিশ্বকাপটা খেলতে চাই। তাদের জন্য বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।

বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

২০১৩ ও ২০১৫ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল পাপুয়া নিউগিনিকে। ২০১৯-এ অবশ্য তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। পূর্ব-এশিয়ার গ্রুপ বি থেকে উঠে এসেছে তারা। ছয় ম্যাচের পাঁচটি জয় করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। এর মধ্যে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। তাদের একমাত্র হারটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

অবশেষে প্রায় তিন বছর বা ঠিক ১০৫৭ দিন পর জয়ের মুখ দেখলো পাপুয়া নিউগিনি। ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর প্রায় তিন বছর পর এবার আরব আমিরাতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয়ের দেখা পেলো আসাদ ভালার দল। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসাদই দলকে জয় এনে দিয়েছেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৫৮ রানে জেতার পর টানা ১৮টি ম্যাচ হেরেছে পাপুয়া নিউগিনি। এ সময়ের মধ্যে ২ উইকেটে কিংবা মাত্র ৫ রানের হারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও পেতে হয়েছে তাদের। অবশেষে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ে এই খরা কাটালো দলটি।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বিতীয় লিগের ম্যাচে আগে ব্যাট করে পুরো ৫০ ওভার খেলে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় আরব আমিরাত। জবাবে ৪ উইকেট হারালেও মাত্র ৩৬.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গিয়েছে পাপুয়া নিউগিনি।

হাজার দিনের অপেক্ষা শেষ হলো পাপুয়া নিউগিনির

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছেন আসাদ ভালা। তিন নম্বরে নেমে ৯৭ বল থেকে ৬ চারের মারে ৬৮ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন পাপুয়া নিউগিনির অধিনায়ক। এছাড়া দলের তারকা খেলোয়াড় চার্লস আমিনির ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ রান।

এর আগে আরব আমিরাতকে অল্পেই গুটিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক এলেই নাও। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। এর বাইরে চাদ সোপার ১৫ রানে ৩ ও রিলে হেকুর ২৯ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

এই জয়ের পরও অবশ্য পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। ১৫ ম্যাচে এক জয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচেই রয়েছে পাপুয়া নিউগিনি।

অন্যদিকে ১৭ ম্যাচে ৯ জয় ও দুই পরিত্যক্ত ম্যাচের সুবাদে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে আরব আমিরাত। শীর্ষে থাকা ওমানের সংগ্রহ ২৮ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট।

 

বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

বর্তমানে পাপুয়া নিউগিনিতে অনেক ক্রিকেটার আছেন যাদের পূর্বপুরুষরাও ছিলেন একই পেশার সঙ্গে জড়িত। বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সদস্য চার্লস আমিনির আগমন তেমনই এক ক্রিকেট পরিবার থেকে। তার বাবা, মা এবং দাদা প্রত্যেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় দলকে। দেশটির ক্রিকেটে তাদের পরিবারের এমন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পাপুয়া নিউগিনির প্রধান ক্রিকেট ভেন্যুর নামকরণ করা হয়েছে আমিনি পার্ক।

চার্লস আমিনির আগমন তেমনই এক ক্রিকেট পরিবার থেকে। তার বাবা, মা এবং দাদা প্রত্যেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় দলকে। দেশটির ক্রিকেটে তাদের পরিবারের এমন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পাপুয়া নিউগিনির প্রধান ক্রিকেট ভেন্যুর নামকরণ করা হয়েছে আমিনি পার্ক।

মাঠের খেলার বিবেচনায় সবার আগে পাপুয়া নিউগিনি দলের যে গুণটি উল্লেখ করতে হয় তা হলো ফিল্ডিং। এই বিভাগে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে বেশ এগিয়ে তারা। অন্যান্য সকল টেস্টখেলুড়ে দেশের পর্যায়ে চলে গিয়েছে তাদের ফিল্ডিং দক্ষতা। তাদের দ্রুতগতির ফিল্ডিং বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে ব্যাটসম্যানদের ওপর। এছাড়াও এর ফলে প্রচুর রান আউটের সুযোগও তৈরি করে থাকে তারা।

জাতিগতভাবে পাপুয়া নিউগিনির লোকেরা বেশ শৃঙ্খলাপ্রিয় ও প্রচুর স্ট্যামিনার অধিকারী। এর ফলে তাদের খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেলও সর্বোচ্চ পর্যায়ের। বোলিং আক্রমণে তেমন দ্রুতগতির কোন পেসার না থাকলেও স্পিন অ্যাটাক বেশ সমৃদ্ধ তাদের। অধিনায়ক আসাদ ভালার পাশাপাশি চার্লস আমিনি, টনি উড়া এবং লেগা সাইকা আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর অন্যতম ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে জিম্বাবুয়ের মত উত্থান-পতন দেখেছে পাপুয়া নিউগিনির ক্রিকেটও। ২০১৮ সালের মার্চ একটি ‘কালো মাস’ হয়ে থাকবে দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে। একই মাসে তারা হারিয়ে বসে তাদের আইসিসি ওয়ানডে ও টি টোয়েন্টি স্ট্যাটাস। এবছর এপ্রিলের আগ পর্যন্ত পুনরায় তা দাবিও করেনি তারা। পাপুয়া নিউগিনি দলের কোচ স্বীকার করেন বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে জায়গা পাকা করার পর আবেগী হয়ে পড়েছিল তার দল।

বাংলাদেশ বনাম পাপুয়া নিউগিনি

বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পর তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর তারা অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গেছে। তাদের জন্য এটা সত্যিই বিশেষ কিছু। আমাদের ও আমাদের জাতির জন্য এটা একটি দারুণ বিষয়। ওয়ানডেতে আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে তবে আমরা সবসময়ই মনে করতাম টি টোয়েন্টি আমাদের খেলা।’

অধিনায়ক আসাদ ভালা অবশ্য লুকাতে পারেননি তার আবেগ। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা প্রচুর পরিশ্রম করেছি এখানে আসতে।

 

পাপুয়া নিউগিনির বিশ্বকাপে আসার পথ:

 

২০১৩ ও ২০১৫ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল পাপুয়া নিউগিনিকে। ২০১৯ এ অবশ্য তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। পূর্ব-এশিয়ার গ্রুপ বি থেকে উঠে এসেছে তারা। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে যেতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। এর মধ্যে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। তাদের একমাত্র হারটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

 

দলের সবচেয়ে বড় তারকা অধিনায়ক আসাদ ভালা। ছয় ফুট উচ্চতার এই ব্যাটসম্যানের বল হিটিং সক্ষমতা দারুণ। তিন নম্বরে খেলা ভালা দলটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। করতে পারেন অফ স্পিনও।

 

পাপুয়া নিউগিনির আরেক ভরসা সহ অধিনায়ক আমিনি। দুর্দান্ত ফিল্ডার তিনি। টেলিভেশন ক্যামেরায় বন্দি না হলেও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডারদের একজন তিনি। করেছেন দারুণ কিছু রান আউট, নিয়েছেন ক্যাচ। কেবল ফিল্ডিং নন, লেগ স্পিনের সঙ্গে ডেথ ওভারের ব্যাটিংটাও ভালোই পারেন আমিনি।

 

পাপুয়া নিউগিনির জন্য আরেক ভরসা হতে পারেন নুরমান ভানুয়া। ২০১৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারে বারমুডার বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক। ডেথ বোলিংয়ের জন্য পারদর্শী এই বোলারের ইয়র্কারটা দারুণ। ব্যাটিংটাও করতে পারেন ভালোই, বিশেষত ফিনিশিং।

 

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত পাপুয়া নিউগিনি স্কোয়াড :

আসাদ ভালা (অধিনায়ক), চার্লস আমিনি, লেগা সাইকা, নরম্যান ভানুয়া, নোসাইনা পোকানা, কিপলিন ডোরিগা (উইকেটরক্ষক), টনি উড়া, হিরি হিরি, গৌদি টোকা, সেসে বাউ, দামিয়েন রাভু, কাবুয়া ভাগি-মোরিয়া, সাইমন আতাই, জেসন কিলা, চ্যাড সোপার, জ্যাক গার্ডনার।

 

পাপুয়া নিউগিনি একাদশ:

লেগা সিয়াকা, আসাদ ভালা (অধিনায়ক), চার্লস আমিনি, সেসে বাউ, সাইমন আটাই, হিরি হিরি, নরমান ভানুয়া, কিপলিং ডরিগা, চ্যাড সোপার, ডেমিয়েন রাভু, কাবুয়া ভাগি-মোরেয়া।

 

বাংলাদেশ বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ বাংলাদেশ  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ 

আরও পড়ুন

শিক্ষা  অপরাধ  স্বাস্থ্য  অর্থনীতি  রাজনীতি  আন্তর্জাতিক  খেলাধুলা  লাইফস্টাইল  সারাদেশ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.