সম্পর্ক নিয়ে সাফ কথা জানিয়ে দিলেন সুবান-তিয়াসা

সুবান রায় ও তিয়াসা রায়ের বিয়ের খবর যেমন এবেলা.ইন-এ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তেমনই বাংলা টেলিপাড়ার এই নবীন দম্পতির নানা মুহূর্তেরও সঙ্গী থেকেছে এবেলা.ইন। ২০১৮-র শারদোৎসবে এবেলার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লাইভে এসে এই দম্পতি শুনিয়েছিলেন তাঁদের প্রেম ও বিয়ের গল্প। সেই সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন এবেলা.ইন-এর পাঠক-দর্শক এবং সুবান রায়ের বাবা-মা।
হয়তো অনেকেই এখনও জানেন না যে, বিয়ের পরেই টেলিপর্দায় নায়িকা রূপে এসেছেন তিয়াসা। ‘কৃষ্ণকলি’-র শ্যামা চরিত্রে দর্শকের মন জয় করেছেন। কিন্তু মাস দু’তিন আগে হঠাৎই একটি জল্পনা শুরু হয় টেলিজগতে যে সুবান ও তিয়াসা বিবাহবিচ্ছেদের দিকে এগোচ্ছেন। সেই জল্পনায় ইতি টেনে, ১১ ফেব্রুয়ারি এবেলা ওয়েবসাইটকে জানালেন যুগলে যে দু’জনে একসঙ্গে খুবই ভাল আছেন। কোনও সমস্যাই নেই। দু’জনেই তাঁদের নিজের জবানিতে কিছু কথা জানালেন—

তিয়াসা— ‘‘আমি ‘কৃষ্ণকলি’-র শ্যুট নিয়ে খুব ব্যস্ত। এটা আমার প্রথম প্রজেক্ট। আমার বৈবাহিক সম্পর্ক প্রথম থেকেই খুবই সুন্দর আর স্বাভাবিক। আমার শ্বশুরবাড়ির সকলের ইচ্ছে না থাকলে আর আমার স্বামী সুবানের মতো মানুষকে সঙ্গে না পেলে এই পথচলা এতটা মসৃণ হতো না। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সেটা সত্যি। পাশাপাশি সংসারও সামলেছি। আমার শাশুড়ি-মাকে দেখেছি অফিস করে সংসার সামলাতে। আমার কাজের শিডিউলটা যেহেতু একটু অন্য রকম, তাই বাবা (শ্বশুর)-মা (শাশুড়ি)-র সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে পারি না। কিন্তু কথাবার্তা-যাওয়া-আসা, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা সব সময় তাঁদের প্রতি ছিল আর আছে। মাঝে আমি আমার শ্যুট আর সুবান ও ছবির শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম ওড়িশাতে। কাজকর্ম ও সংসারের টুকিটাকি সমস্যা নিয়েই জীবন। আমি নাম উল্লেখ না করেই বলছি, আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, যারা আমাদের অ্যাত্তো ভাল চায়, তারা প্লিজ নিজেকে নিয়ে ভাবুন। আগামীতে আমাদের সমস্যার কারণ আপনারা হয়ে উঠবেন না! আমরা ভাল আছি… আমি, সুবান ও আমার শ্বশুর-শাশুড়ি— সবাই। সুবান নতুন প্রজেক্টের জন্য লুক চেঞ্জ করেছে। সেই কারণেই আমরা অনেকদিন কোনও ছবি পোস্ট করিনি। এর পিছনে আর অন্য কোনও কারণ নেই।’’

সুবান— ‘‘তিয়াসার সঙ্গে আমার খুব অল্প সময়ের দেখাশোনার মধ্যে দিয়ে বিয়ে হয়। আমার আর তিয়াসার পরিবারের সম্পূর্ণ সম্মতি ছিল। তিয়াসা বিয়ের আগে থেকেই থিয়েটার করত। সময়ের আগে বা পরে তো কেউ নয়, তাই ঠিক সময়ে, ঠিক জায়গা পেতে তিয়াসার কপাল সঙ্গ দিয়েছে। আমার বাবা উৎপল রায় বলেছিলেন, ‘তিয়াসা সুন্দর, সভ্য, বুদ্ধিমতী, ওর মধ্যে শৃঙ্খলা আছে। অভিনয়ে আগ্রহী হলে ভবিষ্যতে অনেক বড় জায়গাতে পৌঁছবে।’ আমি বিয়ে করে আসার পর থেকেই চারদিন টানা বৃষ্টি হয়েছিল, তাই আমার মা তিয়াসাকে বর্ষা বলে ডাকে, আর আমার বাবা ডাকে সোনা। আমি আমার মা-বাবা ও তিয়াসাকে নিয়ে সুখী জীবনযাপন করছি। আমাদের প্রথম দেখা থেকে বিয়ের পিঁড়ি— পুরো গল্পটাই আমরা জানিয়েছিলাম এবেলা.ইন পাঠককে। আমার নিজস্ব মতামত, ঝগড়া না হলে সেখানে প্রেম নেই আর প্রেম নেই তো ভালবাসাও নেই। বাসন-কোসন এক জায়গায় থাকলে ঠুংঠাং শব্দ তো হবেই! যে সব কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য ব্যক্তিগত কথা বলা হয়নি, সেই কাজকর্ম খুব শিগগির আপনাদের সামনে আসতে চলেছে। আর সামনেই আসছে ভ্যালেন্টাইনস ডে। অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে, সেগুলো ক্রমশ প্রকাশ্য।’’

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.