মাদকাসক্ত পরিবারের ভয়াবহ দুর্ভোগের চিত্র দেখেছি, আইজিপি

মাদকাসক্তির ভয়াবহ রূপ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, পুলিশে চাকরি করার সুবাদে নির্বিশেষে মাদকাসক্ত সদস্যদের নিয়ে পরিবারের দুর্ভোগের ভয়াবহ করুণ চিত্র আমি দেখেছি। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের গোপনে চোখের পানি ফেলতে দেখেছি।

 

৭ অক্টেবার বৃহস্পতিবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মাদকাসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, এই গোপন কান্না এত কষ্টের, যা কারও সঙ্গে শেয়ারও করা যায় না। কিন্তু আমার কাছে এসে অনেকেই শেয়ার করেছেন। এমন ঘটনা একটা নয়, অহরহ ঘটছে।

 

এ রকম ঘটনা হয়েছে যে, তার ছেলে, স্ত্রী কিংবা মেয়েকে গোপনে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। কারণ সমাজে তার সম্মান রয়েছে, তাই কেউ যেন জানতে না পারে। ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, কোনো মাদকই দেশে তৈরি হয় না। ফেনসিডিল আসে প্রতিবেশী এক দেশ থেকে, জনপ্রিয় মাদক ইয়াবা আসে প্রতিবেশী আরেক দেশ থেকে। এখন আবার আসছে আইস, যা প্রতিবেশী এক দেশসহ পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ থেকে আসে।

 

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আমরা যে কাজটা করার চেষ্টা করি, সেটা হচ্ছে মাদকের সাপ্লাই কমানো। এসব দমনের জন্য ছয় থেকে সাতটা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে।

 

কাস্টম বিভিন্ন বিভিন্ন পোর্টে মাদক দমনে কাজ করেছে জানিয়েছে আইজিপি বলেন,যদি ডিমান্ড থাকে, কোনো না কোনোভাবে দেশে মাদকের সাপ্লাই হবেই। সেটা যদি হয় ১ কোটি, ৮০ লাখ বা ৩৬ লাখ, তাহলে প্রত্যেক দিন এই মাদক কোনো না কোনোভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা হবেই।

 

সে কারণে অবশ্যই আমাদের মাদকের ডিমান্ড কমাতে হবে। ডিমান্ড কমাতে হলে যারা মাদকাসক্ত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ওয়েসিস আমাদের অতি ক্ষুদ্র একটি উদ্যোগ।

 

উল্লেখ্য, মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সাততলা ভবনের ষাট শয্যার ওয়েসিস এ বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসক, সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, ইয়োগা এক্সপার্ট এবং অভিজ্ঞ অ্যাডিকশন কাউন্সেলরগণের মাধ্যমে বিশ্বমানের সমন্বিত চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। এখানে পুরুষ এবং মহিলা রোগীর জন্য পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.