যুক্তরাজ্যের সবুজ তালিকায় যাওয়ার আশা বাংলাদেশের

করোনা পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণসংক্রান্ত লাল তালিকা থেকে বাংলাদেশসহ আটটি দেশের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ইংল্যান্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর ভোর চারটায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এ ছাড়া আগামী ৪ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের ভ্রমণব্যবস্থার পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সবুজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করছে ঢাকা।

যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শাপস এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গৃহীত নতুন ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।

লাল তালিকা থেকে বাদ যাওয়া বাংলাদেশ ছাড়া অন্য সাতটি দেশ হলো পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, তুরস্ক, ওমান, মিসর ও কেনিয়া। এই আট দেশ যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর ভোর চারটায় দেশটির সরকারের ভ্রমণসংক্রান্ত হলুদ তালিকায় চলে যাবে।

হলুদ তালিকায় যাওয়ার অর্থ হলো বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর যেসব ভ্রমণকারীর যুক্তরাজ্য অনুমোদিত করোনার টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া আছে, তাঁদের ইংল্যান্ডে গিয়ে আর ১০ দিনের হোটেল কোয়ারেন্টিন করতে হবে না।

তবে এই ভ্রমণকারীদের ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দিন বা তার আগে তাঁদের একটি কোভিড-১৯ প্রি-ডিপারেচার পরীক্ষা ও একটি কোভিড-১৯-এর পরীক্ষা করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব ভ্রমণকারীর যুক্তরাজ্য অনুমোদিত টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া হয়নি, তাঁদের অবশ্যই ইংল্যান্ডে প্রবেশ করে বাড়িতে বা তাঁরা যেখানে অবস্থান করবেন, সেখানে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিন করতে হবে। ইংল্যান্ডে গিয়ে তাঁদের অবশ্যই দ্বিতীয় ও অষ্টম দিন করোনা পরীক্ষা করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির অনুমোদিত করোনার টিকাগুলো হলো ফাইজার-বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসন।

আগামী ৪ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার তাদের ভ্রমণব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। এই পর্যালোচনায় ভ্রমণসংক্রান্ত লাল, হলুদ ও সবুজ দেশের বিদ্যমান তালিকা বাদ যাবে। তখন শুধু একটি তালিকা থাকবে। তা হলো লাল। লাল তালিকায় যেসব দেশের নাম থাকবে না, তারা সবুজ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সময় ‘হলুদ’ বলে কোনো তালিকা থাকবে না।

লাল তালিকার বাইরের দেশগুলো থেকে ইংল্যান্ডে আসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন ব্যবস্থা স্থানীয় সময় ৪ অক্টোবর ভোর চারটায় কার্যকর হবে। এদিন থেকে লাল তালিকার বাইরের দেশের যেসব ভ্রমণকারীর যুক্তরাজ্য অনুমোদিত করোনার টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া আছে, তাঁদের আর কোভিড-১৯-এর প্রি-ডিপারেচার পরীক্ষা করাতে হবে না।

যুক্তরাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ক্রমাগত ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশের ব্যাপারে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে। আগামী ৪ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের ভ্রমণব্যবস্থার পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে সবুজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাইদা মুনা।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.