এটা বড় বিষয় না পার্লামেন্টে কে গেলো না গেলো: নোমান

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘বর্তমান পার্লামেন্ট জনগণের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এই পার্লামেন্টে কে গেলো, কে গেলো না এটা বড় বিষয় নয়।’ শনিবার (১১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত পাঁচ জন সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি এই কথা বলেন।

মজুলম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। এই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী  ব্যালট প্রয়োগের একটি সুযোগ হয়েছিলো গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে। কিন্তু সেই সুযোগ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পেশিশক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে হয়েছে। সুতরাং এই পার্লামেন্টে কে গেলো, কে গেলো না এটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। এই সংসদ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং দেশে যে জাতীয় সমস্যা চলছে , দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই সেটার সমাধান হবে।’

নোমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আজও আমরা লড়াই করছি। উন্নয়নের নামে লুটপাট করছে ক্ষমতাসীনরা। ব্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। বরাদ্দের নামে এমপিরা লুটপাট করছে। প্রবৃদ্ধিকেও আওয়ামীকরণ করা হয়েছে।’

গত বছরের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাদের রাজনীতির বিরাট একটি অর্জন। রাজনীতিতে এত অল্প সময়ে গড়ে ওঠা এই ইতিবাচক প্লাটফর্মটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। জাতীর প্রয়োজনে এটি গঠিত হয়েছে। অন্য দলগুলোকে যোগ করে ঐক্যফ্রন্টকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে।’

মওলানা ভাসানীর স্মৃতি স্মরণ করে নোমান বলেন, ‘মওলানা ভাসানী আজীবন শ্রমজীবি ও কৃষিজীবি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ যাত্রা আমরা প্রথমে মওলানা ভাসানীর কাছেই শিখেছি। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলাম আমরা, এখনও আছি।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনের নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জসিম উদ্দীন আহমেদ, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, জহির উদ্দীন স্বপন, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.