বগুড়া-১ আসন পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন আবারও পুনরুদ্ধারে মাঠে নেমেছে বিএনপি। প্রচার-প্রচারণাও করে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের পছন্দের নেতাদের নাম প্রচার করে যাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলামের নাম। তার নামটি বেশি প্রচার হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে ভিতরে ভিতরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপি থেকে মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়ে নিজের অর্থায়নে প্রথমে উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। সে সময় এলাকার নদীভাঙন মানুষের উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রাখেন। সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনের বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার সখ্যও বেড়েছে আগের থেকে বেশি।

কাজী রফিকুল ইসলামের পর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন চৌধুরী। মাঝে-মধ্যেই মোশারফ এলাকায় এসে অসহায় মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করে দিচ্ছেন। তিনি এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এছাড়া সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির ও বগুড়া ড্যাবের সভাপতি ডা. শাহ মো. শাজাহান আলী প্রার্থী হতে জানান দিয়েছেন।

এদিকে, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের সাংসদ আবদুল মান্নানের মৃত্যুর পর সেখানে কে হচ্ছেন নৌকার পরবর্তী প্রার্থী, তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। আবদুল মান্নানের অনুসারীরা এই সাংসদের স্ত্রী কিংবা ছেলেকে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব সাংসদের কর্মী-সমর্থকেরা। তবে সাংসদের পরিবারের বাইরেও সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

জেলার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনের সদ্য প্রয়াত এমপি আবদুল মান্নান বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে ২০০৮ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ১৮ জানুয়ারি আবদুল মান্নান ইন্তেকাল করেন। হাটে, মাঠে, পথে, ঘাটে সমানে আলোচনা চলছে, আবদুল মান্নানের অবর্তমানে কারা হচ্ছেন এমপি প্রার্থী। তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণও। চলছে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক।

স্থানীয়রা বলছেন, আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পী সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য হয়ে কাজ করছেন। তাদের একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সজল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। উপজেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন মা অথবা ছেলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন। দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে সাহাদারা মান্নান শিল্পীর কথা বলে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। কারণ তিনি সশরীরে এলাকার রাজনীতি ও উন্নয়নে সম্পৃক্ত ছিলেন। 

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এমপি মান্নানের ভায়রা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও ব্যবসায়ী ম. আবদুর রাজ্জাকও আলোচনায় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আবদুর রাজ্জাক এলাকায় সুবিধাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। বিএনপি আমলে হাওয়া ভবনে ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের প্রভাবে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন। আবদুর রাজ্জাক বর্তমানে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপী। তবে কানাডার ডাউনটাউন ও স্কারবোরে পাঁচটি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।

মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা কানাডার বেগমপাড়ায় পাচার করেছেন। আবদুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরা বেশিরভাগ সময়ই কানাডায় থাকেন; তিনি নিজেও কানাডার নাগরিক। ২০০৬ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকেই আবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র আলমগীর শাহী সুমন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন। এবার তিনি মাঠে নেমেছেন।

অপরদিকে, প্রচারণায় আছেন সারিয়াকান্দি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম। জাপার একক প্রার্থী হিসেবে তিনি এবার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় তিনি দোয়াও চেয়েছেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন সিরাজুল ইসলাম সুরুজ। ১৯৭৯ সালে বিএনপির অ্যাড. ওয়াজেদ হোসেন তরফদার, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) আব্দুল মোমিন মন্ডল, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির ডা. হাবিবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হন। ২০০৮, ২০১৪ এবং সবশেষ ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাথী আব্দুল মান্নান বিজয় পেয়েছিলেন।

জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৯০২ জন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮২ জন এবং সোনাতলা উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ১২০ জন। এছাড়া খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশন এই আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.