বিতর্কিত’ তবুও শেখ হাসিনার প্রিয়ভাজন

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি- আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক বিতর্কিত নেতৃত্ব আছে সাধারণ জনগনের কাছে যাদের ইমেজ অত্যন্ত নেতিবাচক। কিন্তু রাজনীতির দুর্দিনে অবদান এবং আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থাকার কারণে তারা শেখ হাসিনার কাছে প্রিয়ভাজন, আস্থাভাজন। অনেকের সাংগঠনিক যোগ্যতা এবং দক্ষতার কারণে শেখ হাসিনা তাদেরকে পছন্দ করে। কেউ কেউ দু:সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির পাশে দাড়িয়েছিলেন; এজন্য তাদেরকে দূরে ফেলে দেননি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরকম কয়েকজনকে নিয়েই এই প্রতিবেদন।
জয়নাল হাজারি
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিতর্কিত রাজনীতিবিদদের মধ্যে ফেনীর জয়নাল হাজারী অন্যতম। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের যে বদনামগুলো হয়েছিল, সেই বদনামগুলোর একটি বড় কারণ ছিল ফেনীতে জয়নাল হাজারীর আলাদা রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এরপর থেকেই জয়নাল হাজারীর রাজনৈতিক জীবন ফিকে হয়ে আসতে থাকে। আস্তে আস্তে রাজনীতি থেকে সরে যান জয়নাল হাজারী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় অসুস্থতার কারণে আবার শেখ হাসিনার কাছে আসেন। চিকিৎসার জন্য টাকা দেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও তাকে জায়গা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা রকম বিতর্কে জড়ালেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত হননি কখনো। তারই পুরস্কার আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে দিয়েছেন। এ কারণেই জয়নাল হাজারী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
শামীম ওসমান
নারায়নগঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে শামীম ওসমান একটা বিতর্কিত চরিত্র। বিশেষ করে ত্বকী হত্যকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তিনি আলোচিত সমালোচিত। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যে পরিচয়ে পরিচিত হোন না কেন শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং প্রিয়ভাজন নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। এর প্রধান কারণ হলো শামীম ওসমানের বাবা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর ছিলেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর এই পরিবারটি বঙ্গবন্ধু হত্যায় বিচারের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সেটি ভুলেননি। এ কারণেই শামীম ওসমানের অনেককিছুই উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি তার প্রিয় কর্মী হিসেবে স্থান দিয়েছেন।

সোহেল তাজ
প্রয়াত শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদের পুত্র। আওয়ামী লীগ সভাপতির আপাত স্নেহে যারা বেড়ে উঠেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সোহেল তাজ। সোহেল তাজ শুধুমাত্র তাজউদ্দীন আহমেদের পুত্র হিসেবে নয়, শেখ হাসিনা তাকে সন্তানতুল্য হিসেবেই সবসময় দেখেন এবং সেরকমভাবেই স্নেহ করেন। আর এ কারণেই অনেক বিতর্কিত ও নেতিবাচক ব্যাপারকেও আওয়ামী লীগ সভাপতি উপেক্ষা করেছেন। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর যে ৪ নেতা খুনীদের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের মধ্যে সোহেল তাজের পিতা ছিলেন অন্যতম।
আব্দুল মান্নান খান
আব্দুল মান্নান খান কমিউনিস্ট পার্টি থেকে আসা আওয়ামী লীগ নেতা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন ঢাকা-১ আসন থেকে, সেই সঙ্গে মন্ত্রীত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি পরবর্তীতে আর মনোনয়ন পাননি। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে শেখ হাসিনা তাকে রেখেছেন, এবারেও তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তাকে দেখা যায় না। আওয়ামী লীগের মধ্যেই তিনি কমিউনিস্ট হিসেবে সমালোচিত। কিন্তু তারপরেও ওয়ান ইলেভেনের সময়ে শেখ হাসিনার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে এখনও তিনি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন।
শাজাহান খান
এবার আওয়ামী লীগের কমিটিতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে শাজাহান খানের অন্তর্ভূক্তি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ নানারকম ঘটনায় শাজাহান খান বিতর্কিত এবং সাধারণ জনগণ তাকে দুর্বৃত্ত চালকদের প্রতিনিধি মনে করে। কিন্তু তারপরেও তার বিশাল শ্রমিক বাহিনী, শ্রমিকদের মধ্যে তার নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তার প্রিয়ভাজন এই নেতা। যতই বিতর্কিত হোক না কেন, শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে তিনি পরিচিত।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.