পুলিশের বর্ণনায় জবি ছাত্রীকে উত্ত্যক্তকারী বখাটে

জিগজ্যাগ মুভমেন্টে মটর বাইক নিয়ে এগিয়ে চলছে আনোয়ার হোসেন আনু।  সারারাত মদ্যপান করে নেশার ঘোর তখনো কাটেনি।  কবি নজরুল কলেজের পিছন দিয়ে দুর সম্পর্কের ভাগ্নেকে নিয়ে মোটরবাইকে সাঝ সকালেও তার মধ্যে হিরোইজম একটা ভাব।

হঠাৎ পথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সামনে পড়লো।  সে মূহূর্তেই তার মধ্যে চলে আসলো হিংস্রতা।  পশুর মত হয়ে গেলো মামা-ভাগ্নে! বাইক থামিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই নৃশংস থাবা দিলো আমাদের বোনটির গায়ে! চলন্ত অবস্থাতেই শ্লীলতাহানী ঘটালো পাষন্ড দুটি।  একেবারে বিমুঢ় হয়ে গেলো মেয়েটি।  তারপরও সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করলো এই অসভ্যতার।

মুহূর্তেই ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লো সংবাদটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটি তাৎক্ষণিক অবহিত করলো থানা পুলিশকে।  সাহসী মেয়েটির অসীম সাহসিকায় অজ্ঞাতনামা ২ জনের বিরুদ্ধে রুজু হলো মামলা।

কিন্তু ঘটনায় জড়িতদের কোনো কুলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না।  নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না কুলাংগার দুটোর পরিচয়।  উর্ধতন অফিসার সবাই যুক্ত হলো ঘটনা উদঘাটনে।  মূহর্মূহ আলোচনা, কর্ম পরিকল্পনা, কোনই কাজে আসছে না।  এদিকে রহস্য উদঘাটনে একের পর এক চাপে অবস্থা দিশেহারা !

অবশেষে রবিবার সন্ধায় পাওয়া গেলো ঘাতককে।  প্রায় ১০০ টি সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলো।  প্রযুক্তিগত তদন্তে রহস্য উদঘাটন হলো।  গ্রেফতার ঘাতক আনু স্বীকার করলো সব, মেয়েটিও সনাক্ত করলো ওকে।  উদ্ধার হলো ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরবাইক।  জানা গেলো ডাকাতি খুনসহ আরও ৪ মামলার আসামি আনু।  স্বস্তি ফিরে আসলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে।

অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের প্রিয় বোনটিকে, যে কিনা সাহস করে শক্ত হাতেই সবকিছুর মোকাবিলা করে ঘাতকদের বিচারের সন্মুখীন করার কঠিন মানসিকতা পোষণ করেছে।  ধন্যবাদ আমার প্রিয় অফিসারদের যারা কিনা ক্লুলেস স্পর্শকাতর একটা ঘটনা দুইদিনের মধ্যে সুচারুরুপে উদঘাটন করেছে।  আইনের আওতায় এনেছে দুই নরপশুকে।  (ফেসবুক থেকে পুলিশ পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ)

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.