সরকারের মন্ত্রীরা ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, রিজভী

সরকারের মন্ত্রীরা ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপে হামলার ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে সোমবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এত বড় ঘটনা ঘটল, সেই ঘটনা এই সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ, অন্যান্য বিভাগ কিছুই বলতে পারলেন না।

আর সরকারের মন্ত্রীরা একের পর এক অকথ্য আজবাজে মিথ্যাচার করছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

রিজভী বলেন, কয়েক দিন আগে ওবায়দুল কাদের বললেন- বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না, বিএনপির কোনো ক্ষমতা নেই।

আবার কালকে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদ বলছেন- কুমিল্লার ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী। ডিমেনশিয়া বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি কথা আছে।

দুদিন আগে বা দুই ঘণ্টা যে কথা বলা হয়েছে, তা পরক্ষণে আবার ভুলে যাওয়া। এই ডিমেনশিয়া, স্মৃতিভ্রমের মধ্যে পড়েছেন ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদরা।
ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছেন তারা। পরশু দিন যা বলছেন, আজকে সেটার পুরোপুরি উল্টো কথা বলছেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে রুহুল কবির রিজভী শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে যান। তারা নেতার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে নেতৃবৃন্দ জিয়াউর রহমানসহ জিয়া পরিবার ও দেশবাসীর জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, জেডআরএফের ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ডা. মাসুদ আখতার জীতু, ডা. মেহেদী হাসান, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান, প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সরদার মো. নূরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিকদের রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে এই নৈরাজ্যকর-ভয়ভীতি-শঙ্কার যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতি আজকে সরকার সৃষ্টি করেছে।

অত্যন্ত কৃত্রিমভাবে তারা এটা সৃষ্টি করে সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে। কারণ করোনায় ব্যর্থতা, মানুষের সুচিকিৎসা দিতে না পারা, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা, মানুষের জীবনযাপন ও তাদের নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন যে ঊধর্বগতি, সেই ঊর্ধ্বগতিতে সারা দেশের মানুষ একেবারে দিশাহারা অবস্থায়। সেগুলোকে মোকাবিলা করতে না পারার কারণে আজকে কৃত্রিমভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

যাতে মানুষের দৃষ্টি ওই দিকে যায় এবং ওই দিকে গিয়ে মানুষ ওটা নিয়ে পড়ে থাকে। সরকারের এসব ব্যর্থতা যাতে মানুষ আলোচনা না করতে পারে, এটি নিয়ে যেন মানুষ দাঁড়াতে না পারে, এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তারা।

সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে আজকে মানুষের নিরাপত্তা নেই, আজকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তারা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারছে না, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবনযাপন করছে।

রিজভী বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ কোথায়। আরে ভাই আমাদের দলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রের যে স্বীকৃত প্রতিবাদ আছে, সেই প্রতিবাদ করলে পরে তারা যদি পাতালেও থাকে, সেই পাতাল থেকে তুলে নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে ভরে রাখা হয়। আর এত বড় একটি ঘটনা সে ঘটনা এই সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ অন্যান্য বিভাগ কিছুই বলতে পারল না!

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.