অল্প বয়সে চুল পাকলে কী করবেন?

পাকা চুল কারোরই কাম্য নয়, বিশেষ করে এই উপমহাদেশে। এখানে মাথায় পাকা চুল থাকা মানেই চিন্তার কারণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল সাদা হয় এ ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের একদল গবেষক। মানসিক চাপেও চুল পেকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে এই সমস্যা দেখা দেয় সবচেয়ে বেশি তরুণ বয়সে। 

পাকা যেন লজ্জার তাই সবাই ব্যস্ত থাকে পাকা চুল কালো করতে। অনেকেই চুলে কৃত্রিম রঙ করেন। কৃত্রিম রঙে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে; ফলে সেসব উপাদান কালো চুলগুলোকেও অসময়ে সাদা করে ফেলতে পারে।  নিম্নমানের হলে তা মাথার চামড়ার ক্ষতি করতে পারে।

প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে থাকা নানা উপাদান থেকে এই চিকিৎসা উপকরণ তৈরি করা সম্ভব। এই উপকরণ ব্যবহার যেমন অর্থসাশ্রয়ী ঠিক তেমনি নিরাপদ এবং কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। চলুন আজকের লেখায় অকালে চুল পাকা রোধের কয়েকটি উপায় দেখে নেয়া যাক –

১. আমলকি ও লেবুর রস মিশ্রণ
লেবু ও আমলকি আমাদের দেশে সহজেই পাওয়া যায়। এই দুটো ফলের পুষ্টিগণ অত্যন্ত বেশি। শরীরের মেদ কমানো, হৃদপিন্ডের সমস্যা ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি চামড়ার ইনফেকশন এবং মাথার চামড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে এই দুটো ফলের জুড়ি নেই। তাই অকালে চুল পাকা রোধের জন্য বাজার থেকে আমলকির গুঁড়া কিনে এনে তা লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে মাথার চামড়ায় ম্যাসাজ করুন, তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হবে।

২. পেঁয়াজ বাটা
পেঁয়াজ একটি ঘরোয়া মশলা। আমাদেরে দেশে কমবেশি সব রান্নাঘরেই পেঁয়াজ থাকে। আর পেঁয়াজ বাটা চুল পাকা রোধের অত্যন্ত কার্যকরী অস্ত্র। পেঁয়াজ ভালোমত বেটে নিয়ে প্রতিদিন কিছুক্ষণ মাথার চামড়ায় ও চুলে ম্যাসাজ করলে এবং চুলে পেঁয়াজ বাটা শুকিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই পাকাচুল কালো হয়ে যাবে। তবে দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য অবশ্যই প্রতিদিন একবার করে এই উপায় অনুসরণ করতে হবে।

৩. নারিকেল তেল এবং লেবুর রস
চুলের যত্নে নারিকেল তেলের কোন জুড়ি নেই। আর লেবুর গুণাগুন তো আগেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাকা চুলের হাত থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতিদিন ৪ চা চামচ নারিকেল তেল এর সাথে আড়াই চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে উক্ত মিশ্রণ চুলের গোড়ায় এবং মাথার চামড়ায় লাগান। দুই সপ্তাহের মধ্যেই পাকা চুল কালো হয়ে উঠবে। তার পাশাপাশি আপনার মাথার চামড়া সুস্থ থাকবে, খুশকি হবে না এবং চুলও হবে উজ্জ্বল।

৪. গাঁজরের রস
গাঁজর একটি পুষ্টিকর সবজি উপাদান। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারাল এর একটা সিংহভাগ গাঁজর একাই পূরণ করার ক্ষমতা রাখে। চুলের যত্নেও গাঁজর বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বাজার থেকে গাঁজর কিনে এনে সেটিকে ব্লেন্ডারে পানি, চিনি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। গাঁজরের যে জুস পাওয়া যাবে, সেটি নিয়মিত পান করুন। প্রতিদিন অন্তত একগ্লাস করে গাঁজরের রস পান করলেই আপনার পাকা চুলের প্রতিকার পাওয়া শুরু করবেন। শুধু চুল নয়, সেইসাথে আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতেও এই গাঁজরের জুস সাহায্য করবে।

৫. তিলের বীজ এবং বাদাম তেল
তিলের বীজ এবং বাদাম তেল এই দুটি বাজার বেশ সহজলভ্য। স্কিুন ডাক্তাররা চুলের রত্নে মাঝে মধ্যে এই চিকিৎসাটি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসায় সবচাইতে বেশি উপকার পাওয়া সম্ভব। প্রথম তিল বীজ গুঁড়ো করে নিন। এরপর তা বাদাম তেলের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি চুলে ও মাথার চামড়ায় লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলেন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.