Mon. Jan 27th, 2020

ফিচার ছেপে তার কী হবে?

বিশ্ব বিনোদন মিডিয়া ঠিক এই ভাবধারাতেই চলছে- তা হলফ করে বলা যাবে না। তবে অনেকাংশে এই ধারাটি এখনও বলবৎ রয়েছে- বাংলাদেশের মিডিয়ায়। এ নিয়ে স্বস্তি রয়েছে দুই শিবিরেই। এর মাঝেও শিল্পী আর সাংবাদিক প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দাঁড়ান। শিল্পীদের প্রতি সাংবাদিকদের এন্তার অভিযোগ, মাঝে মাঝে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সংবাদমাধ্যমেও। শিল্পীরাও আজকাল আর মুখে কুলুপ এঁটে বসে নেই। যার কিছুটা ভেসে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বাকিটুকু শিল্পীমনে জমে থাকে স্বস্তি অথবা বেদনার বুদবুদ হয়ে। মিডিয়া নিয়ে শিল্পীমনে জমে থাকা অপ্রকাশিত কিছু ‘বুদবুদ’ তুলে আনার চেষ্টা ছিল বাংলা ট্রিবিউন-এর পঞ্চম বর্ষপূর্তির এই বিশেষ আয়োজনে। 

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, বছর দুই বা তিনেক হবে। সম্ভবত ২০১৬ সাল। তখন বলা যায়, অভিনয়ের জন্য আমি সংগ্রাম করছি। অনেক প্রশংসিত কাজও করছি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভালো চরিত্রের জন্য যুদ্ধটা চলছে।
আমরা যারা মিডিয়ায় কাজ করি, তারা জানি, সংবাদমাধ্যম আমাদের জন্য কতটা সহায়ক বন্ধু। বিশেষ করে যারা নতুন তাদের জন্য আরও জরুরি। আমাদের দর্শক পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গণমাধ্যমের। তাদের বলতে আমি টিভি, অনলাইন, প্রিন্ট মিডিয়া- সবকিছুকে বোঝাচ্ছি।
দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় নতুনদের জন্য একটি সেগমেন্ট ছিল। যেটার উদ্দেশ্যই থাকতো নতুনদের পৃষ্ঠপোষকতা করা বা কাভার দেওয়া।
আমার এক বন্ধু সে পত্রিকাটিতে কাজ করতো। একদিন সে ওই সেগমেন্টের জন্য আমার নাম প্রস্তাব করে। সে পরিচিত হিসেবে যে আমার নাম প্রস্তাব করেছে, তা নয়। নাম প্রস্তাবের পেছনে সে কিছু যুক্তিও দেয়। সঙ্গে আমার বেশ কিছু কাজের কথাও তুলে ধরে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পত্রিকাটির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা নাকচ করে দেন।
বলেন, ‘তার (আমার) ফিচার ছেপে কী হবে! এরচেয়ে প্রতিষ্ঠিত কাউকে দাও। যাকে সবাই চেনেন!’
আমরা যারা প্রথম দিকে এই মিডিয়ায় সংগ্রাম করেছি বা মিডিয়ায় যাদের কেউ নেই, তাদের জন্য এটা খুবই কষ্টের বিষয়।
তবে মজার বিষয়, এটা আমি তখন জানতে পারিনি। এমন একসময় জানতে পেরেছিলাম, যখন পর পর একই পত্রিকার তিনটি সংখ্যার প্রচ্ছদে আমাকে নিয়ে ফিচার করা হয়েছিল।
তখন একদিন আমার সেই বন্ধু হাসতে হাসতে আমাকে বললো, দেখ তোর ফিচার এখন নিয়মিত আসছে অথচ যখন আমি ছিলাম তখন আপকামিং শিল্পীদের জন্যও তোকে জায়গা দেওয়া হয়নি।
এসব অভিজ্ঞতা থেকে এটুকুই বলবো, যারা নতুন কাজ করে বা সাপোর্ট থাকে না মিডিয়ায়, তাদের জন্য সংবাদমাধ্যমের আর একটু সদয় হওয়া উচিত। কারণ, হয়তো আপনি নিজেও জানেন না কার মধ্যে কী সম্ভাবনা আছে। আপনি হয়তো তাকে ১০ টাকা দেবেন, সে হয়তো আপনাকে ১ হাজার টাকাও ফিরিয়ে দিতে পারে। দশ টাকায় আপনার খুব একটা ক্ষতি হবে না। কিন্তু আপনারও তো ৯৯০ টাকার লাভ করার সম্ভাবনা থাকে। আবার সে যে বিষয়টি পেল তা হাজার টাকার চেয়েও বেশি। ছেলেটিও হয়তো অসম্ভব অনুপ্রেরণা বা মনোবল পেতে পারে।
আর মিডিয়া ডিমান্ড অনেকটাই দর্শক শ্রোতাদের ওপর নির্ভর করে। তাদের ভালোবাসা যেমন আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি, তেমনি তাদের কিছু কাজও আমাদের ভীষণভাবে আহত করে। বিশেষ করে অনলাইনের এই সময়টাতে। অনেকে হয়তো খুব অল্পতেই আমাদের নিয়ে ট্রল করেন বা আমাদের সহকর্মীদের সম্পর্কগুলো নিয়ে নানা কথা ছড়ান। অনেকেই হয়তো জানেন না, মিডিয়ায় আমরা কাজের জন্য যত প্রতিযোগিতাই করি না কেন, পারিবারিক জীবনে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। আপনাদের একটি বাজে মন্তব্য যখন আমাদের পরিবারের কেউ দেখে, তারাও কষ্ট পায়। বা আমরাও চরমভাবে পরিবারের কাছে বিব্রত হই। মন্তব্যকারী হয়তো বিষয়টি ভাবেন না। হয়তো খেয়াল করেন না, যে মাধ্যমে এমন কাজটি করা হচ্ছে সেখানেও আমার বাবা-মা থাকতে পারেন।
আমি তো মনে করি পৃথিবীটা এমন হয়ে গেছে, বাবা-মা-সহকর্মী-মিডিয়া ও দর্শক সবাই মিলে একটি পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *