Thu. Dec 5th, 2019

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কাল

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামীকাল ১৭ মে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ১৯৮১ সালের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছয় বছর প্রবাসে থাকতে বাধ্য হন। বরাবরের মতো এবারও শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করবে আওয়ামী লীগ।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যার সময় স্বামীর চাকরি সূত্রে জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। ছোট বোন শেখ রেহানাও সে সময়  তার সঙ্গে জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান তারা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর বিদেশেই কাটান শেখ হাসনিা ও ড. ওয়াজেদ দম্পতি। আর শেখ রেহানা চলে যান লন্ডনে। ১৯৮১ সালে  আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র আর প্রগতিশীলতার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

কিন্তু সেই দিনটি মোটেও নিষ্কলুষ-নির্ঝঞ্ঝাট বা মসৃণ ছিল না। রাজনীতির মতোই প্রকৃতিও সেদিন ছিল ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। দিনটি ছিল রবিবার। ছিল কালবৈশাখীর  হাওয়া, ঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি আর দুর্যোগও সেদিন গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ মানুষের মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি। গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে অধিকারবঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়, তাদের একমাত্র আশার প্রদীপ বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে। মুষলধারার বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে তারা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিল ‘নেত্রী’ কখন আসবেন, এই প্রতীক্ষায়। অবশেষে বিকাল চারটায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর দিয়ে জনসমুদ্রের জোয়ারে এসে পৌঁছান শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি। তাকে এক নজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত রাস্তাগুলো   জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দেশের মাটিতে পা দিয়ে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ তার আগমন উপলক্ষে স্বাধীনতার অমর স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত ছিল ঢাকার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বর্জ্র নিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম— পিতৃ হত্যার বদলা নেবো।’ সেদিন অবিরাম মুষলধারায় বারি-বর্ষণে যেন ধুয়ে-মুছে যাচ্ছিল বাংলার মাটিতে পিতৃ হত্যার জমাট বাঁধা পাপ আর কলঙ্কের চিহ্ন।

শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তনের পর নেতারা তার হাতে তুলে দেন দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যের সাফল্যগাথা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতাকা। এরপর থেকে শেখ হাসিনা দলীয় কাউন্সিলে টানা আট বার নির্বাচিত হয়ে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এবারসহ চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তার দুই সন্তানকেও সুশিক্ষিত করে তুলেছেন। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একজন তথ্য প্রযুক্তিবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করে এরইমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *