Tue. Nov 12th, 2019

বিএনপিকে আয়নায় চেহারা দেখতে বললেন হানিফ

অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপিকে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখতে বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।  

তিনি বলেন, ‘আজ বিএনপির এক নেতা প্রেস ব্রিফিং করলেন। প্রেস ব্রিফিং করে বললেন, ‘আদালতের মধ্যে একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছে কুমিল্লায়, এরপর আর সরকার থাকে না। সরকার পদত্যাগ করেন’। আমি বলি এটা হচ্ছে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তারা দু’জন মামাতো ফুপাতো ভাই, একই মামলার আসামি ছিলো। আবেগের বসে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু বিএনপি নেতারা আপনারা কোন মুখে, কীভাবে সরকারের ব্যর্থতার কথা বলেন। এই ঘটনা নিয়ে কথা বলার আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন। অতীতটা দেখার চেষ্টা করেন।’ 

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা বিশ্বশান্তির অগ্রদূত দেশরত্ন শেখ হাসিনার কারান্তরীণ ও গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন।  

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘এই বাংলাদেশে আপনারা (বিএনপি) ক্ষমতা ছিলেন, তখন ঝালকাঠিতে আদালতের মধ্যে বোমা হামলা করে ২ বিচারককে হত্যা করেছিলেন। গাজীপুরের আদালতে বোমা হামলা করে ১২ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছিলো। কোথায় ছিলো তখন আপনাদের সরকার। সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছিলো। একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে পর্যন্ত আপনারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আবার খুব বড় বড় গলায় এখন বলেন, ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিৎ।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের (বিএনপি নেতাদের) লজ্জা হওয়া উচিৎ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আপনাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। আপনাদের শিক্ষা হয়নি। তারপর আপনারা বারবার জনগণের ওপর আঘাত করেছেন। নিজের অপকর্ম আপনারা ধরে রাখতে চেয়েছেন। ক্ষমতায় থাকতে আপনারা লুটপাট-সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন। ক্ষমতার বাহিরে থেকে দেশের জন্য, জনগণের জন্য কোনও কাজ করেননি। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য আপনারা জনগণের ওপর আঘাত করেছেন। আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চালিছেন।’ 

আওয়ামী লীগের এ মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপির দুর্নীতি, ব্যর্থতার কারণে ২০০৭ সালে একটি অসাংবিধানিক সরকার দায়িত্ব নিয়েছিলো। সেই সরকারের দায়িত্ব ছিলো যারাই  অপকর্ম করেছে, এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাদের গ্রেফতার করা। বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে গ্রেফতারের কথা ছিলো। অথচ তাঁকে গ্রেফতার না করে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। এটা ছিলো দীর্ঘ চক্রাক্তের একটা অংশ।’ 

এ প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সেই সময় যারা তত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিল তারা সকলেই ছিলো বিএনপির। ২০০৭ সালের এ ঘটনা দিয়ে জাতির সামনে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে- এই বিএনপি কোনোদিন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলো না।  বিএনপি নামক দলটি গণতন্ত্র চর্চায়ও বিশ্বাসী ছিলো না। অথচ আজকে কথায় কথায় গণতন্ত্রের ধোয়াশা তুলে বেড়ায়।’ 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছিলো অন্য পথে,  তিনি স্বাভাবিক পথে বিদায় নেননি। বেগম জিয়া ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন দিলেন। কিন্তু নির্বাচনে জনগণ যাকে ম্যান্ডেট দিলেন তার হাতে ক্ষমতা দিবেন না। উনি ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চান। জনগণের তীব্র আন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে তখন বাধ্য হলেন।’  

হানিফ বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি। তখনও মেয়াদ শেষে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে শুরু হলো নতুন চক্রান্ত। ক্ষমতা ছাড়া যাবে না। নানা তালবাহানা করে, উনারই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন সাহেবকে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলেন। আজকে বিএনপি কথায় কথায় দাবি তুলেন- তারা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। অথচ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পদ্ধতি তো বানচাল করেছে বিএনপিই।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘২০০৬ সালে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন নাই। ক্ষমতা আগলে রাখার জন্য আপনাদের রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সরকার গঠন করার চেষ্টা করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে ১/১১ এর সরকার গঠিত হয়েছিল। কেনও বিএনপি সেই সময় ক্ষমতা ছাড়তে চায় নাই। কারণ তারা জানতো ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে অপকর্ম করেছে, জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো।’ 

দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাংসদ নূরুল আমীন রুহুল ও শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *