Tue. Nov 12th, 2019

কিশোর আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছিল

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে অংশ নেয়া শিশু-কিশোরদের কাছ থেকে রাষ্ট্র, সরকার এবং সুশীল সমাজ ‘শূন্য’ শিক্ষা গ্রহণ করেছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখক, গবেষক অধাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। অথচ শিশু-কিশোরদের ওই আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র, সমাজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক শিক্ষা নেয়ার সুযোগ এসেছিল বলেও উল্লেখ করে এই সমাজ বিশ্লেষক।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বর্ষপূতি উপলক্ষে জাগো নিউজ-এর কাছে মতামত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম। গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দু’জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। স্বতস্ফূর্ত ওই আন্দোলনে সাধারণ নাগরিকরাও সমর্থন দেয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ওই আন্দোলনের ব্যাপকতা ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা আন্দোলনের খবর গুরুত্ব পায় বিশ্ব মিডিয়াতেও। ঘটনার একদিন পরেই দেশের অন্যান্য জায়গাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। টনক নড়ে যায় সরকার এবং প্রশাসনেরও। সরকার দলীয় সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পরিবহন শ্রমিকেরা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিলে আন্দোলন এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ওই আন্দোলন থেকে কি শিক্ষা মিলেছে-তা জানতে চাওয়া হয় অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল একটি বিস্ময়। এমন আন্দোলন বিশ্বে বিরল। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিপদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিরাপদ আন্দোলনের ডাক দিল। অথচ তারা যৌক্তিক দাবিতে মাঠে নেমে দেখল, তাদের আন্দোলনটাই নিরাপদ নয়। হেলমেট বাহিনীসহ নানা বাহিনীকে মাঠে নামতে দেখলাম একটি গণদাবির বিপক্ষে।

সবচেয়ে লজ্জার বিষয় ছিল, কিশোর আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছিল। তারা সরকারকে সামনে না এনে রাষ্ট্রের মেরামত চেয়েছিল। এটি দারুণ একটি দর্শন। কারণ সরকার আসে সরকার যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের অবব্যস্থাপনা থেকেই যায়। আমরা পুলিশের আইজিপিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে বলতে শুনলাম, ‘শিশু-কিশোররা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে’। অথচ সেই কথার কোনোই প্রতিফলন আমরা দেখতে পেলাম না।

আমরা আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রভাবাশালীদের অবস্থান স্পষ্ট হতে দেখলাম। সরকারের নৌ পরিবহনমন্ত্রী শ্রমিকদের মাঠে নামিয়ে দিলেন শিশুদের বিপক্ষে। অথচ শিশুরা তাদের জীবন রক্ষার অধিকারে মাঠে নেমেছিল। আমি মনে করি, সরকার প্রধান তখন শিশুদের সঙ্গে আলোচনা করলে সবচেয়ে ভালো হত। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শিশুদের বসানোর সুযোগ করে দিতে পারতেন। এটি করলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা, তা অনেকটাই কমে যেত। অথচ রাষ্ট্রকে আমরা বিপক্ষে দাঁড়াতে দেখলাম।

সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সুরক্ষা দেয়া। আর শিশুদের দাবি ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের দাবি। অথচ, রাষ্ট্র, সরকার, সুশীল সমাজ এই আন্দোলন থেকে ‘শূন্য’ শিক্ষা গ্রহণ করল। অর্থাৎ কোনো কিছুই শিক্ষা নিতে পারিনি আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *