Thu. Dec 12th, 2019

অবশেষে ক্ষমা চাইলেন জাকির নায়েক

মালয়েশিয়ায় স্বেচ্ছা নির্বাসনরত ভারতীয় ইসলামী ভাষ্যকার ড. জাকির নায়েক সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য অবশেষে ক্ষমা চাইলেন। তবে তিনি কোনো বর্ণবাদী মন্তব্য করেন নি বলেও দাবি করেছেন। 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কখনোই কোনো ব্যক্তি কিংবা সম্প্রদায়কে হতাশ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। কারণ এটা ইসলামের মূলনীতির বাইরে। কাজেই এই ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।’

ড. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ এনেছে ভারত সরকার। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এ মন্তব্যের জন্য মালয়েশীয় পুলিশ দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। 

চলতি মাসের শুরুতে জাকির নায়েক বলেছিলেন, ‘ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের চেয়ে মালয়েশিয়ার হিন্দুরা একশ গুণ বেশি অধিকার ভোগ করেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার চাইনিজরা দেশটির অতিথি হিসেবে ছিল।’

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও সম্প্রদায় খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। দেশটির তিন কোটি ২০ লাখ লোকের মধ্যে ৬০ শতাংশ মুসলমান। বাকিরা নৃতাত্ত্বিক চাইনিজ ও ভারতীয়।

জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার স্থায়ী নাগরিক হলেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী তাকে দেশটি থেকে বহিষ্কার দাবি করেন। অন্তত সাতটি রাজ্যে প্রকাশ্যে আলোচনায় অংশ নিতে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘জাকির নায়েক মুক্তভাবে ইসলাম প্রচার করতে পারবেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে তার কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।’

যদিও পুলিশ বলছে, মালয়েশিয়ার প্রতিটি রাজ্যে জাকির নায়েককে প্রকাশ্যে আলোচনায় অংশ নিতে তাকে না করা হয়েছে।

রয়েল মালয়েশিয়ার পুলিশের করর্পোরেট যোগাযোগ প্রধান সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আসমাওতি আহমাদ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সব পুলিশ কন্টিনজেন্টকে এমন একটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য বজায় রাখতেই এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *