Fri. Oct 18th, 2019

আফগানদের বিপক্ষে স্পিনারদের ওপরেই আস্থা মিরাজের

সীমিত ওভারের ফরম্যাটে আফগানদের পাওয়ার হিটিং চিন্তার কারণ। আসগর আফগান, হাসমতউল্লাহ শহিদি, মোহাম্মদ নবীরা দুম করে ভাল বলকেও মেরে বসেন। কিন্তু এবার খেলাটা টেস্ট। সেখানে পাওয়ার হিটিং, বাহারি মার, স্ট্রোক প্লে আর ডেড ওভারের উত্তাল উইলোবাজির চেয়ে ধৈর্য্য, মনোযোগ, মনোসংযোগ আর গাণিতিক ব্যাটিংটাই আসল।

সে কারণেই টেস্টে আফগান ব্যাটসম্যানদের নিয়ে তেমন চিন্তা নেই বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের। তবে লেগি রশিদ খান, বাঁহাতি জহির খান আর অফব্রেক বোলার মোহাম্মদ নবীর গড়া আফগান স্পিন আক্রমণ নিয়েই যত চিন্তা। টাইগাররা কি ঐ স্পিন মায়াজাল ভেদ করতে পারবেন?

উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর শঙ্কা হয়ত নেই। তবে চিন্তা আছে অনেকের মনেই। তবে বাংলাদেশের অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ মোটেও চিন্তিত নন, তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। মিরাজ মনে করেন, খেলাটা টেস্ট। সীমিত ওভারের নয়, দীর্ঘ পরিসরের। এখানে ৫০ বা ২০ ওভারের বোলিং ততটা কার্যকর হয় না, হবেও না।

আজ (রোববার) দুপুরে শেরে বাংলায় প্র্যাকটিস চলাকালীন মিডিয়ার সঙ্গে আলাপে মিরাজ দাবি করেন, বাংলাদেশের স্পিনারদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। সাকিব, তাইজুল আর তার গড়া বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণকে আফগানদের চেয়ে অভিজ্ঞ এবং কার্যকর বলেই মনে করেন এ তরুণ অফস্পিনিং অলরাউন্ডার।

মিরাজ বোঝানোর চেষ্টা করলেন, সীমিত ওভারের স্পিন বোলিং আর টেস্টে স্পিনারদের বোলিং অ্যাপ্রোচ ভিন্ন। একইভাবে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে স্পিনারদের বোলিংয়ের বিপক্ষে এবং প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচটাও হয় অন্যরকম। যেখানে আফগানরা পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন মিরাজ।

নিজ দলের স্পিনারদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের বোলারদের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বিশেষ করে আমাদের সাকিব ভাইর কথা। অলমোস্ট ১৩-১৪ বছর ক্রিকেট খেলে ফেলেছেন। খুবই সফল একজন খেলোয়াড়, ওয়ার্ল্ড ক্লাস বোলার, ব্যাটসম্যান আমরা জানি এবং তাইজুল ভাইও টেস্টে বেশ সফল। আর একটা উইকেট পেলে তার একশ উইকেট হবে। আমারও ৩-৪ কছরের এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে। এই তিন চার বছরে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমি বলব ওদের থেকে আমারদের টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ভাল।’

টেস্টের বোলিংয়ের ধরন এবং স্পিনারদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ, অ্যাপ্লিকেশন পুরোপুরি ভিন্ন- একথা জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি বলব ওয়ানডে ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চাইতে টেস্ট ক্রিকেট হিউজ ডিফরেন্ট। যেটা ওদের স্পিনাররা করে আসছে। যেমন ওরা ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে রান সেভ দিয়ে বল করে বা বিভিন্ন জায়গা বল করে থাকে। এটার জন্য হয়তো ব্যাটসম্যান চার্জ করে থাকে। টেস্ট ক্রিকেটে কিন্তু ওইরকম কিছু নাই যে জোর করে মারা বা চার্জ করে খেলা। যতক্ষণ ভাল করবে ততক্ষণ সারভাইব করবে। একটা খারাপ করলে ওটাই মারবে। আর ধৈর্য্য সহকারে বোলার কতক্ষণ বল করতে পারে এটাই বোলারের ধৈর্য্য। ওরা কতটুকু করবে বা কতটুকু প্রস্তুতি নিয়ে আসবে সেটা ওরাই ভাল জানে। বাট আমি মনে করি ওদের থেকে টেস্ট ক্রিকেটে আমরা অনেক এগিয়ে আছি। আমরা শতভাগ দিতে পারলে ফলাফল আমাদের দিকেই আসবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *