Tue. Nov 19th, 2019

সৌদিতে ধরপাকড় অব্যাহত,ফিরলেন আরও২০০

সিডি নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরবে বিদেশি কর্মীদের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই শত শত কর্মী ধরা পড়ছেন। এই তালিকার একটি বড় অংশই বাংলাদেশি কর্মী। গত কয়েকমাস ধরে নিয়মিত তাদেরকে ফেরত পাঠানো হলেও সম্প্রতি ধরপাকড়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত কর্মীদের পাশাপাশি নিয়মিতরাও ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন। ফলে কেউ-ই নিরাপদে কাজ করতে পারছেন না সেখানে। লুকিয়ে লুকিয়ে কাজে যেতে হচ্ছে। সেখানেও নিরাপদবোধ করছেন না তারা। ফেরত আসা কর্মীদের অভিযোগ বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রেও নিরাপদ নন তারা। কর্মরত থাকাকালেই তারা ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরও কিছুই বলছে না। ফেরত আসার ধারাবাহিকতায় গতরাতেও ২০০ কর্মী দেশে ফিরেছেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এদের অনেকেই স্বল্প মেয়াদে দেশটিতে অবস্থান করেন। দেশে ফেরা এসব কর্মীদের বাড়ি পৌঁছানোর মতোও পরিস্থিতি নেই। একেবারে এক কাপড়ে ফেরত এসেছেন। এই অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বিমানবন্দরে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। গতরাতে ফেরত আসাদের একজন কুড়িগ্রামের আকমত আলী। সংসারে সচ্ছলতা আনতে মাত্র পাঁচ মাসে আগে বহু স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। আকমত আলীর অভিযোগ, আকামার মেয়াদ আরও দশ মাস থাকলেও তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ফেরত আসা গোপালগঞ্জের ছেলে সম্রাট শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৮ মাসের আকামা ছিলো তার। নামাজ পড়ে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার কোন কিছুই না দেখে দেশে পাঠিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জের সাইফুলেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, আকামার মেয়াদ দেখানোর পরও তাকে দেশে পাঠানো হয়। সাইফুল বলেন, সবে মাত্র ৯ মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন, আকামার মেয়াদ ছিলো আরও ছয় মাস। চট্টগ্রাম জেলার আবদুল্লাহ বলেন, আকামা তৈরীর জন্য ৮ হাজার রিয়াল জমা দিয়েছেন কফিলকে কিন্তু পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তিনি কোন দায়িত্ব নেননি। ফেরত আসা এসব কর্মীরা সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। আর কাউকে যেন তাদের মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য করা না হয় সে দাবিও তোলেন তারা। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর ১৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় ৮০৪ জন জনকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সহযোগিতা করেছে। সম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি ফেরত আসলো গতকাল রাতে। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ফেরত আসা কর্মীরা যেসব বর্ণনা দিচ্ছেন সেগুলো মর্মান্তিক। সাধারণত: ফ্রি ভিসার নামে গিয়ে এক নিয়োগকর্তার বদলে আরেক নিয়োহকর্তার অধীনে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে অনেক লোক ফেরত আসতো। কিন্তু এবার অনেকেই বলছেন, তাদের আকামা থাকার পরও ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অনেককে ফিরতে হচ্ছে যারা খরচের টাকার কিছুই তুলতে পারেননি। তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এই দায় নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন করে কেউ যেন গিয়ে এমন বিপদে না পড়ে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। পিএনএস/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *