Mon. Jan 27th, 2020

গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাস বন্ধ

গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে যশোর থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয় রোববার। আজ তা ছড়িয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।
বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা হোসেন জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দশ জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা ‘স্বেচ্ছায়’ বাস চালাচ্ছেন না। জেলা গুলো হলো, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।
শ্রমিকরা কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে না জানিয়ে মোর্তজা বলেন, অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার জন্য নতুন সড়ক আইনে তাদেরকে ‘ঘাতক’ বলা হচ্ছে। তাদের জন্য এমন আইন করা হয়েছে যা সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
“নতুন আইনের অনেক ধারার ব্যাপারে শ্রমিকদের আপত্তি রয়েছে। সরকার সমাধানের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় শ্রমিকরা রোববার দুপুর থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।”
গত বছর ঢাকায় বাসচাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে আগের আইন কঠোর করে এই আইন করা হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।
২০১৮ সালে পাশ হওয়া এ আইন গত পহেলা নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের জারি করা হয়। তবে আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। অন্য দিকে আইনটি সম্পর্কে সবার স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণ দেখিয়ে আরো দুই সপ্তাহ পর তা কার্যকর করে সরকার। এরপর থেকে বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকরা ‘স্বেচ্ছায়’ এই কর্মবিরতি শুরু করে।
পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতি যশোরের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ফুলু জানান, ১৪ নভেম্বর যশোরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে সড়ক আইন ২০১৮ সংশোধনের দাবি করা হয়। এরপর রোববার সকাল থেকে যশোরের ১৮ রুটের শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
তবে যশোর-বেনাপোল ও যশোর-সাতক্ষীরার অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও কার, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নসিমন-করিমন জাতীয় ছোট যানবাহন এবং অযান্ত্রিক গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ঈগল পরিবহনের বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান বলেন, ঢাকা-কলকাতা ও বেনাপোল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য স্থানে দূরপাল্লার সব বাস চলাচল করছে। ট্রেন চলছে। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না।
যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্রী সানজিদা আক্তার সান্তনা কলেজে যাওয়ার জন্য সোমবার সকালে নাভারন কলেজ মোড় বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন।
শান্তনা বলেন, ‘যশোর যাওয়ার জন্য নাভারনে এসে শুনি বাস চলছে না। জরুরি কাজে কলেজে যেতে হবে কিন্তু এখন আর যেতে পারছি না।’
এদিকে, পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করায় সোমবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ -মাগুরা, ঝিনাইদহ- চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ-হাটফাজিলপুর ও ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডু রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও কার চালকরাও কর্মবিরতি পালন করছেন।
বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে চলাচল করছে। স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
বাগআঁচড়া বাসস্ট্যান্ডে আবু সাইদ হুসাইন নামে এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে খুলনা যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। বাস বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন তিনি।
ঝিনাইদহ বাস, মিনিবাস ও মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান খোকন জানান, যান চলাচল ঠেকাতে সড়কে কোনো ব্যারিকেড দেননি তারা।
নতুন চালু হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে এই অনানুষ্ঠানিক কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বলে জানিয়েছেন যশোরের শ্রমিকনেতা মোর্তজা হোসেন।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *