Tue. Feb 18th, 2020

মার্কিন-ইরান দ্বন্দ্বে কোন পক্ষে পাকিস্তান?

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহতের ঘটনায় উভয় দেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কারো পক্ষে নেই বলে জানিয়েছে।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের সিনেটে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি এক ব্রিফিংয়ে নিজে দেশের অবস্থান ও বৈদেশিক অবস্থা তুলে ধরেন।

ইরাকে মার্কিন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও ইরান সমর্থিত ইরাকি সামরিক বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে।’

সিনেটের চেয়ারম্যানের নির্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত এক সপ্তাহের বৈদেশিক অবস্থা তুলে ধরেন।  

সিনেটে কুরেশি বলেন, আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের মতে ২০১১ সালে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন ও ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদীর হত্যার চেয়ে জেনারেল সোলাইমানি হত্যা মারাত্মক অবস্থার তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরাক তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেননা মার্কিন এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে দেশটি।

তিনি আরও বলেন, আমি কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছি।’ 
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সাথে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত বিরাজ করছে।

জেনারেল সোলায়মানি হত্যার পর ইরানের অবস্থান সম্পর্কে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনী সোলায়ামানির হত্যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি এই হামলাকে আন্তর্জাতক সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকা নাটকীয়ভাবে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন) স্বীকার করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছিল, ওয়াশিংটনের কাছে তথ্য ছিল যে মার্কিন সেনা এবং কূটনীতিকদের উপর আক্রমণ করার পরিকল্পনায় ছিল সোলায়মানির। তাই তার উপর হামলা করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি তাদের সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ। এমন উত্তেজনা রাতারাতি তৈরি হয়নি। অনেক সময়ের ব্যবধানে তীব্র উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকার দাবি তাদের এই ঘটনাটি ছিল প্রতিরোধমূলক। কোনো যুদ্ধে জড়ানো তাদের উদ্দেশ্য নয়। একই সাথে তারা বলেছেন তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রস্তুত। তবে আমেরিকা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরান যদি হামলা চালায় তবে ওয়াশিংটন আগের তুলনায় আরও কঠোর হবে। 

পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটে আরও ১১টি বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় পাকিস্তান কোন পক্ষের সাথে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *