Tue. Feb 18th, 2020

মার্কিন মিত্র দুবাই-ইসরাইলে হামলার হুমকি ইরানের

ইরাকে অবস্থিত দু’টি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভি জানিয়েছে।

এদিকে ইরাকের দু’টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাব দিলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও ইসরাইলে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এছাড়া লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যদি ইরানের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালায়, তবে তারা ইসরাইলে হামলা করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮০ মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে।

এর আগে পাল্টা হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হামলার হুমকি দিয়েছিল ইরান। মঙ্গলবার রাতে ওই দুই ঘাঁটিতে হামলার পর এই হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক সংবাদে এ কথা বলা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রেস টেলিভিশন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বরাতে জানিয়েছে, ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কথা স্বীকার করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালায় তাহলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে। যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং তা হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, অন্তত দু’টি বিমানঘাঁটির সেনা আবাসস্থলে এক ডজনেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। খবর বিবিসি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে বাগদাদে ড্রোন হামলায় হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে হত্যা করা হয় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান সোলেইমানিকে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, অন্তত দু’টি বেইজে আক্রমণ করা হয়েছে। যার একটি ইরবিল এবং অন্যটি আল-আসাদে অবস্থিত।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় যে হামলা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা দলের সাথে পরামর্শ করছেন।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তাসংস্থা ইরনার বরাতে জানিয়েছে, শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

“আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সকল সহযোগীদের সতর্ক করেছি, যারা এই সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীকে তাদের বেইজ ব্যবহার করতে দিয়েছে। যেসব জায়গা থেকে ইরানকে লক্ষবস্তু করে হামলা হবে, সেখানেই আক্রমণ করা হবে।”

আল মায়াদ্বীন টেলিভিশনের এক খবরে বলা হয়েছে, কাসেম সোলেইমানিকে নিজ শহরে দাফনের কয়েক ঘন্টা আগেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথম হামলাটি হয়েছে আলা-আসাদে এবং দ্বিতীয়টি ইরবিলের বিমানঘাঁটিতে।

দিনের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার দেশটির জন্য একটি খারাপ বিষয় হবে।

তার এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী ইরাক থেকে সৈন্য সরানোর ব্যাপারে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিল, এর পরপরই আবার সেটি ভুলবশত পাঠানো হয়েছে বলে বিবৃতি দেয়। ওই চিঠিতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে মার্কিন সৈন্য সরানোর কথা বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *