Sun. Jan 19th, 2020

প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত

হে আল্লাহ, আমাদের জিন্দেগীর গুনাহ খাতা মাফ করে দেন। হে আল্লাহ, উম্মত গুনাহগার, আপনি সকল  উম্মতকে মাফ করে দেন।  হে আল্লাহ, বিশ্বের সকল মুসলমানের জানা-মাল, ইমান, আমল, ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করেন। হে আল্লাহ, বাতিলের সব রাস্তাকে বন্ধ করে দেন। হে আল্লাহ, সারা দুনিয়ার মানুষকে হকের উপর কায়েম করেন। হে আল্লাহ, বিশ্ব ইজতেমাকে কবুল করেন। হে আল্লাহ, আমাদের দোয়া কবুল করেন”  ইত্যাদি গভীর আকুতি-মিনতিপূর্ণ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রবিবার তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। 

এদিকে ধর্মমন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রথম পর্বে আগত মুসল্লিরা আগামীকাল (সোমবার) আসরের পূর্বে ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. এমদাদুল হক।

মোনাজাতে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের নিরাপত্তা, মুক্তি এবং ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে কাকুতি মিনতি জানানো হয়। গভীর ভাবাবেগপূর্ণ পরিবেশে ‘আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন’ ধ্বনিতে মধ্যাহ্নের আকাশ-বাতাস কাপিঁয়ে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অপার করুণা ও অশেষ রহমত কামনা করেছেন দেশ-বিদেশের অগণিত ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

লাখো মানুষের কাঙ্খিত আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ। 

বেলা ১১ টায় শুরু করে ১১ টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত ৩৮ মিনিট স্থায়ী আবেগঘন আখেরী মোনাজাতে হাজারো কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে রাহমানুর রাহীম আল্লাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। মনীব-ভৃত্য, ধনী-গরীর, নেতা-কর্মী নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশা-গোষ্ঠীর মানুষ পরওয়ারদেগার আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। 

দক্ষিণে খিলক্ষেত, উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত বিশাল জনসমুদ্র থেকে মধ্যাহ্নের আকাশ কাপিয়ে ধ্বনি উঠে- হে আল্লাহ, হে আল্লাহ। মুঠোফোনে এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাধে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন পরওয়ারদিগারের শাহী দরবারে। গুনাহগার, পাপী-তাপী বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের ৬৫টি দেশের প্রায় ২৫শ’ তাবলীগ অনুসারী বিদেশি মেহমান আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। 

সকাল থেকে দিক নির্দেশনামূলক বয়ানের পর লাখো মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১১ টা ০৮ মিনিটে। জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে হাত তুলেন আল্লাহর দরবারে। আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে রবিবার লাখ লাখ মুসলমান যেন ভেঙে পড়েছিলেন টঙ্গীতে। 

সকল পথের মোহনা হয়ে উঠে তুরাগ তীরের ইজতেমা নগরী। রাজধানী ঢাকা ছিল প্রায় ফাঁকা। টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ চারপাশের এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপনীবিতান, অফিসসহ সব কিছু ছিল বন্ধ। সকলের প্রাণান্তকর চেষ্টা ছিল দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লিদের সাথে মোনাজাতে শরীক হয়ে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৩৮ মিনিটের আবেগঘন মোনাজাতে হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ প্রথম ১৭ মিনিট মূলত: পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ২১ মিনিটে তিনি বাংলা ভাষায় দোয়া করেন। 

ভিআইপিদের মোনাজাতে অংশগ্রহণ: ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বি মিয়া, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি মেয়র এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *