Tue. Jan 21st, 2020

পথচারী নারীকে ‘হিজড়া’ বলে পেটালেন ছাত্রলীগের ৩ নেত্রী

হিজড়া’ ডাকের প্রতিবাদ করায় এক পথচারী নারীকে মা’রধরের অ’ভিযোগ উঠেছে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের তিন নেত্রীর বি’রুদ্ধে।

অ’ভিযোগ ওঠা ওই তিন নেত্রীর নাম- সুস্মিতা বাড়ৈ, সোনালী আক্তার এবং জোতি সাহা।

জানা যায়, মা’রধরের শিকার হওয়া ঐ ভুক্তভোগী নারীর নাম আনিকা। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার পর তিনি ইডেন কলেজের বিপরীতে অবস্থিত খাবারের দোকানের (ফুড কর্নার) সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

এ সময় তাকে ‘হিজড়া’ বলে সম্বোধন করেন রাস্তার পাশে আড্ডায় থাকা ইডেন কলেজের ছাত্রলীগের তিন নেত্রী।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে ইডেনের ওই তিন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের পরিচয়ে তাকে হু`মকি দিয়ে মা’রধর করেন। পরে ভুক্তভোগী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি তুলে ধরেন।

যদিও মা’রামা’রির বিষয়টি অস্বীকার করে সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘ঐ নারীর গায়ে কেউ হাত দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

ভুক্তভোগী ঐ নারী কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমা’র সঙ্গে কি হয়েছে কেউ না দেখলে বুঝবে না। আমি হেঁটে যাচ্ছি ওরা তিনজন আমাকে দেখে বলে দেখ হিজড়া যাচ্ছে। ওই সময় প্রতিবাদ করাটা ছিল আমা’র অ’প’রাধ। তাদের সঙ্গে আমা’র ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তাঁদেরকে আমি চিনিও না। পরে সুস্মিতা আমাকে কল দিয়ে বলে যে আপু বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, যাতে আমি এটা কাউকে না জানায়।’

আনিকা আরও বলেন, ‘ফেসবুকে অনেকে হু`মকি দিচ্ছে স্ট্যাটাস ডিলিট করার জন্য, আমি করিনি। বলছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক দাদা বিষয়টি সমাধান করে দেবে। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোন সান্ত্বনা পাচ্ছি না।’

অ’ভিযুক্তদের বি’রুদ্ধে থানায় কেন অ’ভিযোগ করেননি? আনিকা বলেন, ‘থানায় অ’ভিযোগ করলে হয়তো তাদের দলীয় সংগঠনের লোকের দ্বারা আরও হয়’রানির শিকার হব, তাই অ’ভিযোগ করিনি।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইডেন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আম’রা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ওইখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন দেখি কয়েকজনের মেয়ের মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে। পরে অনেক লোকজন জড় হয়েছিল সেখানে। তবে কী’ নিয়ে হয়েছিল তা জানা নেই।’

ভুক্তভোগী ঐ নারীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধ’রা হলো-

‘আমি আনিকা… ইডেন কলেজের সামনের কলোনি দিয়ে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলাম। তখন একটা মেয়ে আমাকে হিজড়া বলে ডাক দেয়, তখন আমি তার কাছে বললাম আপনি আমাকে হিজড়া বললেন কেন? তখন তার সাথে থাকা মেয়েসহ আমা’র দিকে তেড়ে আসে, এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

আমি যখন বলি, আপনারা এইরকম ব্যবহার কেন করছেন… তখন বলে আম’রা ইডেন কলেজে পড়ি, ছাত্রলীগ করি, লেখক দার (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) সাথে রাজনীতি করি। এই বলে আমাকে গালাগালি আর মা’রধর করে চুল ধরে একে অ’পরের নাম নেয় তখন আমি ওদের নাম শুনতে পাই।

ওরা ছিল সুস্মিতা বাড়ৈ, সোনালী আক্তার এবং জোতি সাহা। ওরা আমাকে মা’রতে মা’রতে মাটিতে শুয়ে ফেলে এবং আমা’র ওড়না টেনে ফেলে দেয় আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলে….. বলে পোলাপাইন ডাক ওরে মাইরা ফেল…. কেউ আমাকে বাঁ’চাতে আসেনি… এটা কি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ?

যে দেশের একটি সাধারণ মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারবে না। জাতির কাছে প্রশ্ন…!!!! আজ আমি একা বলে বিচার পেলাম না…..বিচার চাই…..’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রী সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘আম’রা বান্ধবীরা কলেজের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এ সময় এক বান্ধবী আরেক বান্ধবীকে মজা করে বলছিল এই তোকে আজ হিজড়াদের মতো লাগছে। এই সময় ওই মহিলা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন ওই মহিলা এসে বলে থাপড়াইয়া দাঁত ফেলে দেব। তখন আম’রা বললাম আপনি থাপড়াইয়া দাঁত ফেলে দেবেন কেন? তখন সে বলে আম’রা নাকি তাকে হিজড়া বলেছি। এই নিয়ে আমাদের কথা কা’টাকাটি হয়।

পরে লেখক দাদা ( ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক) আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়। লেখক দাদাকে বিস্তারিত বলার পর দাদা ওই মহিলার ফোন নম্বর আমাকে দেয়। পরে আমি ওই মহিলাকে ফোন দিয়ে সরি (দুঃখিত) বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই মহিলাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না। আর ওই মহিলার সাথে তর্কের বেশি কিছু হয়নি।’

তবে লেখক ভট্টাচার্য ভুক্তভোগী ঐ নারীর বিষয়ে কী’ভাবে জানতে পেরে আপনাকে ফোন দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘ওই মহিলা হয়ত দাদাকে (লেখক ভট্টাচার্য) ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *