Fri. Feb 21st, 2020

আগ্রাসী পরিবেশ নীতির বিরোধিতা আদিবাসীদের

ব্রাজিলের চরম ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোরানোর আগ্রাসী পরিবেশ নীতির পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে আদিবাসী ও উপজাতিরা। বুধবার তারা দ্বিতীয় দিনের মতো এ বিষয়ে আলোচনার জন্য একত্রিত হয়ে বলছিল, প্রেসিডেন্ট আমাজন ধ্বংস করছে, তারা জীবনধারণের জন্য যেটার ওপর নির্ভরশীল। খবর এএফপি।

দেশটির ৪৭টি উপজাতি গোষ্ঠীর ৪৫০ জন সদস্য দ্বিতীয় দিনের মত আলোচনায় বসে। যেখানে, প্রেসিডেন্ট কর্তৃক পরিবেশ ও নিজেদের জমি রক্ষায় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দুর্বল করে ফেলার অভিযোগ করা হয়। 

বলসোরানো বলেছিলেন, আদিবাসীদের প্রচুর জমি রয়েছে, তিনি সে জায়গাগুলো বাণিজ্যিকভাবে খনন ও কৃষি কাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চান, যাতে আমাজন অঞ্চল উন্নত হয়ে আদিবাসীরা দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পায়, তারা একথারও বিরোধিতা করেন।

আদিবাসী গোষ্ঠী কায়াপো প্রধান ও পরিবেশবিদ রাওনি মেটুক্রেটি জিংগু নদীর তীরে তার গ্রামে এই সভার আহ্বান করেন, যেখানে দেশটির কংগ্রেসের কাছে প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী পরিবেশ নীতি ঠেকানোর আহ্বান জানানো হয়।

রাওনি বলেন, “আমরা এখানে আমাদের জমি, মাতৃভূমি আমাজন ও পরিবেশ রক্ষা এবং তাকে (প্রেসিডেন্ট) আমাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলতে বারণ করার জন্য এসেছি।” তিনি নিজেদের পৈতৃক জমিতে কখনও খনন কাজ করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাঞ্জেলা মেন্ডেস। তিনি বিখ্যাত পরিবেশবিদ, শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা ও রাবারের রস সংগ্রাহক চিকো মেন্ডেস’র কন্যা, যাকে আমাজন রক্ষার আন্দোলনের জন্য ১৯৮৮ সালে হত্যা করা হয়।

চিকো মেন্ডেস এক সংবদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছিলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে পারি, তাদের কাছে রাষ্ট্র ক্ষমতা আছে। আমাদের আছে জলের শক্তি, ফুল ও পৈত্রিক জমি।”

তিনি ব্রাজিলের আদিবাসীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন এপিআইবির সাথে জোট বাঁধেন, যার প্রধান সোনিয়া গুয়াজারা বলছিলেন, “এটি আমাদের ইতিহাসের এটি আমাদের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুতর একটি মুহূর্ত। যা অনেকটা যুদ্ধের দৃশ্যের মতো দেখায়।” গুয়াজারা বলসোনারোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের শক্তিশালী কৃষিজমি এবং কৃষিব্যবসাকে আমাজন অঞ্চলে বিস্তৃত করছেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, কৃষকদের সাথে জমির দ্বন্দ্ব এবং অবৈধ খনন শুরু করতে ব্রাজিলের ৮ লাখ ৫০ হাজার আদিবাসী মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো হয়েছে, যার কারণে উপজাতিদের ভবিষ্যতকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে।

বলসোনারো আদিবাসীদের ব্রাজিলের অর্থনীতি ও সমাজে সংযুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গুয়জারা সেটাকে তাদের সংস্কৃতি ও ভাষার মৃত্যু হলে যেমন অনুভূতি হয়, তারও এমন একটি অনুভূতি হয়েছিল বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *